আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফা যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তাদের কাছে “অত্যাধিক ও অযৌক্তিক” হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তেহরান এই প্রস্তাবকে কাগজে পড়ার সময়ও গ্রহণযোগ্য মনে করেনি এবং এটিকে প্রতারণামূলক ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা এখনও হয়নি। তবে বিভিন্ন মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে বার্তা বিনিময় হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ইরান যুদ্ধ চাইছে না; বরং তারা চায় সংঘাতের স্থায়ী সমাধান এবং গত কয়েক সপ্তাহের হামলায় সৃষ্ট ক্ষতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের কাছ থেকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রাপ্তি।
ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, তারা যুদ্ধবিরতি কার্যকর করবে নিজেদের শর্তে এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব তার শর্ত পূরণ না করলে গ্রহণযোগ্য হবে না।একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, ইরানের নিজস্ব পাঁচ দফা পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত করছে:
১.ইরানি কর্মকর্তাদের হত্যা অবসান।
২.ভবিষ্যতে আর কোনো যুদ্ধের পুনরাবৃত্তি না ঘটানো নিশ্চিত করা।
৩.যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান।
৪.সকল ফ্রন্টে সংঘাতের অবসান।
৫.হরমুজ প্রণালিতে ইরানের সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতি প্রদান।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত চলাকালীন, মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো—বিশেষত পাকিস্তান ও মিশর—ইরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। পাকিস্তানকে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হচ্ছে কারণ এটি ইরানের সঙ্গে স্থিতিশীল পারস্পরিক সম্পর্ক রাখে এবং সৌদি আরবের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি রয়েছে। মিশরও যে কোনো আলোচনার আয়োজনের জন্য প্রস্তুত, যা উত্তেজনা কমাতে সহায়ক হবে।
ইরান যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবকে শান্তির আড়ালে সামরিক ও অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণের একটি কৌশল হিসেবে দেখছে। এদিকে, যুদ্ধ চলাকালে ইরান ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলিতে আরও হামলা চালিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলে সামরিক শক্তি বৃদ্ধি করেছে।
তেহরান আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে শুধুমাত্র তাদের শর্ত অনুযায়ী, এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাব তাদের শর্ত পূরণ না করলে গ্রহণযোগ্য হবে না।আল জাজিরা, রইটর্স ও এপি
রিপোর্টার্স২৪/এসসি