আন্তর্জাতিক ডেস্ক: উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব জসিম মোহাম্মদ আল-বুদাইউই বলেছেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করা এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা চালিয়ে ইরান সব ধরনের ‘রেড লাইন’ অতিক্রম করেছে।বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
আল-বুদাইউই অভিযোগ করেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে জাহাজ চলাচলের ওপর শুল্ক আরোপ করেছে, যা আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘনের শামিল এবং এক ধরনের আগ্রাসন। একই সঙ্গে কিছু জাহাজ অপহরণ ও হামলার শিকার হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোর জ্বালানি স্থাপনায় ইরানের হামলা বিশ্ব অর্থনীতির ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। তেহরানের এমন কর্মকাণ্ডকে তিনি ‘স্পষ্ট আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যা দেন। তার দাবি, ইরানের হামলায় সৌদি আরব ও কুয়েতের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
জিসিসি মহাসচিব বলেন, সদস্য দেশগুলোকে বিশ্বের ‘অর্থনৈতিক ফুসফুস’ বলা হয়। তারা বৈশ্বিক তেল উৎপাদনের একটি বড় অংশ জোগান দেয় এবং আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে এসব দেশের স্থাপনায় হামলা বিশ্ব অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
তিনি অভিযোগ করেন, ইরান পরিকল্পিতভাবে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতেও হামলা চালাচ্ছে এবং এসব হামলায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং পারস্পরিক সম্পর্কেও বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা দিচ্ছে।
তবে আল-বুদাইউই স্পষ্ট করে বলেন, জিসিসিভুক্ত দেশগুলো কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না এবং তাদের ভূখণ্ড অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহারের সুযোগও দেবে না।
তিনি জানান, উত্তেজনা কমাতে জিসিসি দেশগুলো এতদিন সংযম প্রদর্শন করেছে এবং কূটনৈতিক সমাধানকেই অগ্রাধিকার দিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংলাপের মাধ্যমে সংকট নিরসনের আহ্বান জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি