আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরান এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে, যা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে সমাধানের চেষ্টা হিসেবে পাঠানো হয়েছে। এক সিনিয়র ইরানি কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নেতিবাচক হলেও টেলআন প্রস্তাবটি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করা হয়নি।
প্রকাশ্য বক্তব্যে ইরানি কর্মকর্তারা ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনার সম্ভাব্যতা কঠোরভাবে খণ্ডন করেছেন। তবে পাকিস্তানকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া না দেওয়ায় ইঙ্গিত মিলেছে যে তেহরানের কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি এখনও প্রস্তাব বিবেচনা করতে পারেন। পাকিস্তানি কর্মকর্তারা জানান, প্রস্তাবটি পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানকে পাঠানো হয়েছে এবং এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো উত্তর পাননি।
প্রস্তাবের মূল শর্তে রয়েছে,ইরানের উচ্চ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ সরানো, সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রোগ্রাম সীমিত করা এবং আঞ্চলিক মিত্রদের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করা।
তবে ইরানের প্রতিক্রিয়া এখনও কঠোর। দেশটির মিলিটারি কমান্ডের মুখপাত্র ইব্রাহিম জোলফাকারি বলেন, আমরা কখনোই আপনাদের সঙ্গে সমঝোতা করব না। এখন নয়, কখনো নয়। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বেগাই বলেছে, “ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো আলোচনার সুযোগ নেই। যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি বিশ্বাসযোগ্য নয়।
উত্তরপশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ চলার কারণে ইরান, ইসরায়েল ও মার্কিন মিত্রবেসে হামলা অব্যাহত রয়েছে। ইরান নিত্য নতুন ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালাচ্ছে, তেল এবং এলএনজি পরিবহন প্রভাবিত হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রও কূটনৈতিক বিকল্প হিসেবে পারস্য উপসাগরে হাজার হাজার এয়ারবর্ন সৈন্য মোতায়েন করতে যাচ্ছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের উত্তেজনার মধ্যেই, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ‘উৎপাদনশীল আলোচনা’ শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক শিথিলতা তৈরি করেছে। তবে তেহরান এটিকে কূটকৌশল হিসেবে খণ্ডন করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি