রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: কুমিল্লায় মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনার পেছনে চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছে র্যাব। সংস্থাটি জানিয়েছে, দায়িত্বে চরম অবহেলার কারণেই পদুয়ার বাজারে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে ১২ জনের প্রাণহানি ঘটে।
র্যাবের তথ্য অনুযায়ী, দুর্ঘটনার সময় রেলক্রসিংয়ে দায়িত্বরত দুই গেটম্যানের কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। শুধু তাই নয়, দুর্ঘটনার পর তারা পালিয়েও যান।
এ ঘটনায় অভিযুক্ত গেটম্যান মো. হেলাল (৪১)-কে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। বুধবার (২৫ মার্চ) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১১-এর উপ-অধিনায়ক মো. নাঈম উল হক।
তিনি জানান, মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে কুমিল্লার শংকুচাইল এলাকা থেকে হেলালকে আটক করা হয়। তিনি এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার এক নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি।
গত ২২ মার্চ রাত ৩টা ১০ মিনিটে কুমিল্লা জেলার পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় রেলক্রসিং পার হওয়ার সময় যশোর থেকে লক্ষ্মীপুরগামী ‘মামুন স্পেশাল’ নামের একটি যাত্রীবাহী বাসকে ট্রেন ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই ১২ জন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।
প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, রেলক্রসিংয়ের গেট বন্ধ না করায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। দায়িত্বে থাকা দুই গেটম্যান হেলাল ও মেহেদী হাসান দুজনেই সে সময় দায়িত্বস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এই ঘটনায় নিহত যাত্রী সোহেল রানা-র খালা বাদী হয়ে লাকসাম রেলওয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় দুই গেটম্যানকেই আসামি করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত হেলালকে থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। অন্য অভিযুক্তকে ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম