রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: কুমিল্লা, ফেনী ও হবিগঞ্জে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জন নিহত হয়েছেন। একই সময়ে বান্দরবানে পর্যটকবাহী একটি বাস খাদে পড়ে আহত হয়েছেন আরও ১৭ জন। সব মিলিয়ে চার জেলায় এসব দুর্ঘটনায় আহতের সংখ্যা প্রায় ৪২ জনে পৌঁছেছে।
শনিবার (২১ মার্চ) গভীর রাত থেকে রোববার (২২ মার্চ) সকাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে এসব দুর্ঘটনা ঘটে বলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রতিনিধিদের তথ্য থেকে জানা গেছে।
কুমিল্লার সদর দক্ষিণ উপজেলায় যাত্রীবাহী বাস ও ট্রেনের সংঘর্ষে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। আহতদের কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পদুয়ারবাজার বিশ্বরোড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে সাতজন পুরুষ, দুইজন নারী ও তিন শিশু রয়েছে। তারা সবাই বাসের যাত্রী। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ময়নামতি হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল মোমিন।
ফেনীর রামপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাস, অ্যাম্বুলেন্স ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। রোববার ভোর ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে। হাইওয়ে পুলিশ জানায়, মহাসড়কের এক লেনে সংস্কারকাজ চলার সময় একটি অ্যাম্বুলেন্স ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় শ্যামলী পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে ধাক্কা দিলে চালকদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয় এবং যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে বেপরোয়া গতিতে আসা দোয়েল পরিবহনের একটি বাস জটলার মধ্যে ঢুকে পড়লে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক মোটরসাইকেল আরোহী, একটি বাসের সুপারভাইজার এবং এক যাত্রী।
অন্যদিকে হবিগঞ্জের মাধবপুরে বাস ও পিকআপের সংঘর্ষে মা-ছেলেসহ চারজন নিহত হয়েছেন। রোববার সকালে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আন্দিউড়া এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। তারা হলেন সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার পিকআপচালক ইব্রাহিম মিয়া, কিশোরগঞ্জের আছমা আক্তার এবং তার ১২ বছর বয়সী ছেলে সজিব। অপর একজনের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, তবে তিনি আছমার স্বামী বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর পিকআপটি উল্টে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। পরে সকাল ৯টার দিকে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেন। উদ্ধারকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পিকআপের নিচ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করেন।
এদিকে বান্দরবানের সুয়ালক এলাকায় একটি পর্যটকবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের খাদে পড়ে যায়। এতে অন্তত ১৭ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। রোববার ভোর ৫টার দিকে বান্দরবান-কেরানিহাট সড়কের সুয়ালক কিউবি রেস্টুরেন্টের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের উদ্ধার করে বান্দরবান সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঢাকা থেকে আসা সৌদিয়া পরিবহনের বাসটি বান্দরবানে প্রবেশের মুখে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে যায়। যাত্রীদের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা উদ্ধারকাজে এগিয়ে আসেন এবং পরে ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি