রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কারাগারে প্রায় ৮১ হাজার বন্দি ঈদ উদযাপন করছেন। এ বন্দিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী রয়েছেন।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে বর্তমানে ২১৫ জন কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে ১৮৩ জন ডিভিশন সুবিধা পাচ্ছেন। এ তালিকায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৩৭ জন, সাবেক সংসদ সদস্য ৪৮ জন এবং অন্যান্য পেশার ৯৮ জন রয়েছেন। ডিভিশন না পেয়ে ভিআইপি হিসেবে কারাগারে আছেন আরও ৩২ জন।
ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ খাবার, স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং বিনামূল্যে ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেছে কারা অধিদপ্তর। বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির অংশ হিসেবে এসব আয়োজন করা হয়েছে।
নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে পায়েস বা সেমাই ও মুড়ি, দুপুরে সাদা ভাত, গরুর মাংস (অমুসলিমদের জন্য খাসির মাংস), মুরগির রোস্ট, আলুর দম ও রুই মাছ পরিবেশন করা হবে। এছাড়া পান ও সুপারির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
এছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষে অর্ধেকের বেশি সাজা ভোগ করা পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন—চাঁদপুর কারাগারের আকাশ রিশি প্রকাশ দাশ, গাজীপুর জেলা কারাগারের রবিউল হোসেন, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জিকারুল হক জিকু ও নুরুজ্জামান এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের আব্দুল করিম।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ জানান, ঈদের আনন্দ বন্দিদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে দেশের সব কারাগারে বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। ঈদের দিন নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে এবং তিনদিন বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে পারবেন।
কারা কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন থেকে তিন দিনের মধ্যে বন্দিরা একবার ৫ মিনিট স্বজনদের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলার সুযোগ পাবেন। একই সময়ে স্বজনরাও একবার সাক্ষাৎ করতে পারবেন। বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের জন্য কারাগারের বাইরে আপ্যায়নের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
ঈদের দিন কারাগারের ভেতরে বন্দিদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থাও থাকবে। বন্দিদের অংশগ্রহণে গান ও প্রীতি ফুটবল ম্যাচ আয়োজন করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম