রাজবাড়ী প্রতিনিধি: পরিবারের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাট হয়ে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ বাড়ি ফিরছেন।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল থেকে ঘাটে যাত্রীদের ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে কোনো ভোগান্তি না থাকায় নির্বিঘ্নে পারাপার করতে পারছেন ঘরমুখী মানুষ ও যানবাহন।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ফেরিঘাট থেকে দৌলতদিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা প্রতিটি ফেরি ও লঞ্চে চোখে পড়ার মতো যাত্রী ছিল। যাত্রীরা দৌলতদিয়া ফেরি ও লঞ্চঘাটে নেমে যাত্রীবাহী পরিবহন, মাহেন্দ্র ও মোটরসাইকেলে করে তাদের গন্তব্যে চলে যাচ্ছেন।
এদিকে ঘাটে যানজট না থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল থেকে আসা যানবাহনগুলো সরাসরি ফেরিতে উঠে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করতে পারছে।
অপরদিকে লঞ্চঘাটে গিয়ে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে দৌলতদিয়ায় আসা প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রীদের ভিড় রয়েছে। যাত্রীরা লঞ্চ থেকে নেমে দৌলতদিয়া বাস টার্মিনালে গিয়ে সেখান থেকে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। যাত্রীদের নিরাপত্তায় ঘাট এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
ঢাকা থেকে আসা মাগুরাগামী যাত্রী সোলেমান মোল্লা বলেন, “প্রিয়জনের সঙ্গে ঈদ উদযাপন করতে গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছি। পথে কোনো ভোগান্তি নেই। ফেরিঘাটেও কোনো সমস্যা হয়নি। ঘাটে আসা মাত্রই ফেরিতে উঠতে পেরেছি। এতে আমরা খুবই খুশি।”
ঝিনাইদহগামী যাত্রী মমিন মোল্লা বলেন, “পদ্মা সেতু চালুর আগে যে ভোগান্তি ছিল, তা এখন নেই। ভোগান্তি ছাড়াই বাড়ি ফিরতে পারছি—এতে আমরা খুশি। তবে দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া রুটে আরেকটি সেতু হলে আরও ভালো হতো।”
নদীয়া ডিলাক্স পরিবহনের চালক সামসুল আলম বলেন, “পরিবেশ খুব ভালো। আমরা এমন পরিবেশই চাই। পথে কোনো ভোগান্তি নেই, ফেরিঘাটেও নেই। ঘাটে এসে সরাসরি ফেরিতে উঠতে পারছি—এতে আমরা ও যাত্রীরা সবাই খুশি।”
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া ঘাট শাখার এজিএম মো. সালাহউদ্দিন বলেন, “যাত্রী ও যানবাহন নির্বিঘ্নে পারাপারের জন্য ছোট-বড় মিলিয়ে ১৭টি ফেরি চালু রয়েছে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘাট এলাকায় যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোনো ভোগান্তি নেই।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন