| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়ে উত্তম মহিমান্বিত ভাগ্যরজনী

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১৭, ২০২৬ ইং | ০২:৫০:৫৫:পূর্বাহ্ন  |  ৪৮১৭২৬ বার পঠিত
লাইলাতুল কদর: হাজার মাসের চেয়ে উত্তম মহিমান্বিত ভাগ্যরজনী

স্টাফ রিপোর্টার: লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়ে উত্তম রজনী। লাইলাতুল কদর উম্মতে মুহাম্মাদির জন্য শ্রেষ্ঠ নিয়ামত।

রমজানের শেষ দশকের কোনো এক বিজোড় রাতকে শবে কদর বা লাইলাতুল কদর বলা হয়। আল্লাহ তা‘আলা এই রাতকে মুসলমান উম্মাহর জন্য বিশেষ নিয়ামত হিসেবে রাখেছেন। কোরআন ও হাদিসে এই রাতের মহিমা বর্ণিত হয়েছে, যেখানে বান্দারা আল্লাহর কাছে দোয়া ও ইবাদত করলে তাদের পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ হয় এবং তারা অসীম সওয়াব লাভ করে। শবে কদরের রাতকে "হাজার মাসের চেয়ে উত্তম" বলা হয়েছে, অর্থাৎ এ রাতে যা ইবাদত করা হয়, তার প্রতিদান অন্যান্য রাতের তুলনায় অনেকগুণ বেশি।

লাইলাতুল কদরের রাতে আল্লাহর রহমত পৃথিবীতে অবতীর্ণ হয়। ফেরেশতারা এবং জিবরাইল (আ:) প্রভুর নির্দেশমতো বান্দাদের ওপর শান্তি, বরকত ও অনুগ্রহ বর্ষণ করে। সৃষ্টির প্রতিটি কাজের রিজিক, জীবিকাসহ বছরের সকল গুরুত্বপূর্ণ নিয়তি এই রাতে নির্ধারিত হয়। রাসুল (সা:) এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি লাইলাতুল কদরে ঈমান ও সওয়াবের আশায় ইবাদত করে দাঁড়িয়ে থাকবে, তার পূর্বের সমস্ত গুনাহ মাফ হবে।

লাইলাতুল কদরের রাতের নামের অর্থ হচ্ছে মর্যাদাপূর্ণ রাত বা ভাগ্যরজনী। "শবে" অর্থ রাত এবং "কদর" অর্থ মহিমান্বিত, সম্মানিত বা ভাগ্যশালী। এই রাতে কোরআন নাজিল হয়েছে, যা মানবজাতির জন্য দিশারি ও হিদায়াতের সুস্পষ্ট নিদর্শন। রাসুল (সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি এই রাতে দাঁড়িয়ে ইবাদত করবে, তার অন্তর আল্লাহর প্রেমে উদ্বেলিত হবে এবং তাকে জান্নাতের বিশেষ রহমত প্রাপ্ত হবে।

হাদিসে বর্ণিত আছে, লাইলাতুল কদরের রাতকে খুঁজে পেতে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলোতে ইবাদত করা উচিত। এটি হতে পারে ২১, ২৩, ২৫, ২৭ বা ২৯ রমজানের রাত (অর্থাৎ ২০, ২২, ২৪, ২৬ বা ২৮ শে রোজার দিবাগত রাত)।

হাদিসে প্রিয় নবী হযরত মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যে রাতটি লাইলাতুল কদরের রাত হবে, তা চেনার কিছু আলামত বলেছেন। তা হল- ১.রাতটি গভীর অন্ধকারে ছেয়ে যাবে না। ২.রাতটি নাতিশীতোষ্ণ হবে। ৩.মৃদ বাতাস প্রবাহিত থাকবে। ৪.সে রাতে ইবাদত করে মানুষ অপেক্ষাকৃত তৃপ্তিবোধ করবে। ৫.কোনো ঈমানদার ব্যক্তিকে আল্লাহ স্বপ্নে হয়তো তা জানিয়ে দিতে পারেন। ৬. ওই রাতে বৃষ্টি বর্ষণ হবে। ৭. সকালে হালকা আলোকরশ্মিসহ সূর্যোদয় হবে, যা হবে পূর্ণিমার চাঁদের মতো। উম্মুল মুমিনীর হযরত আয়েশা (রা) হতে বর্নিত। তিনি বলেন, হে আল্লাহর রাসূল! আমি যদি জানতে পারি যে, কোন রাতটি লাইলাতুল কদর তাহলে তখন কোন দোয়াটি পাঠ করব। তিনি বললেন, তুমি বল, আল্লাহুমা ইন্নাকা আফুউন তুহিব্বুল আফ্ওয়া ফা'ফু আন্নী। এর অর্থ হচ্ছে - হে আল্লাহ! নিশ্চয় আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন। অতএব, আমাকে ক্ষমা করে দেন (তিরমিযী)।

লাইলাতুল কদরের রাত শেষ হওয়া পর্যন্ত পৃথিবীতে শান্তি বিরাজ করে। শয়তানের সকল কুমন্ত্রণা নিষ্ক্রিয় থাকে, কোনো যাদুকরের যাদু কার্যকর হয় না। এ রাতের ইবাদত বান্দার হৃদয়কে আল্লাহর প্রেমে ভাসিয়ে তোলে, তার দোয়া কবুল হয় এবং আল্লাহ তার প্রতি অগাধ রহমত বর্ষণ করেন।

অতএব, মুসলমানদের জন্য এই রাতের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি শুধু আল্লাহর সঙ্গে সম্পর্ক দৃঢ় করার সুযোগ নয়, বরং বছরের সমস্ত সওয়াব, নেক আমল এবং রহমতের মূল উৎস। রমজানের শেষ দশকে প্রতিটি বিজোড় রাতকে লাইলাতুল কদর মনে করে ইবাদতে মশগুল হওয়া, ইবাদত, দোয়া ও ইতেকাফের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে নিকটতম হওয়ার সেরা পথ।

লাইলাতুল কদরের গুরুত্বের কথা স্মরণ রেখে প্রতিটি মুসলমানকে এই রাতকে ধ্যান, ইবাদত, কোরআন পাঠ ও দোয়ার মাধ্যমে উদযাপন করা উচিৎ। এ রাতের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত, শান্তি ও বরকত প্রত্যেকের জীবনকে ছুঁয়ে যাবে।।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪