সিনিয়র রিপোর্টার: সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল করে দেওয়া বাংলাদেশের সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করা হয়েছে। রোববার (১৫ মার্চ) সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ৭৪ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশ করা হয়।
রায়টি লিখেছেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ। এর আগে গত ২০ নভেম্বর আপিল বিভাগ এ বিষয়ে রায় ঘোষণা করেছিল।
রায়ের ফলে সংবিধানে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার বিধান পুনরুজ্জীবিত হলো। তবে এটি তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হবে না। জাতীয় সংসদের চতুর্দশ নির্বাচন থেকে এ বিধান প্রয়োগ হতে পারে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রায় তিন দশক আগে সংবিধানের বাংলাদেশের সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ২০১১ সালে আপিল বিভাগ ওই সংশোধনীকে সংবিধান পরিপন্থী ঘোষণা করে বাতিল করেছিল।
পরবর্তীতে ওই রায়ের বিরুদ্ধে করা আপিল গ্রহণ করে এবং এ-সংক্রান্ত রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদন নিষ্পত্তি করে আপিল বিভাগ ২০ নভেম্বর নতুন রায় দেয়।
তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের আপিল বিভাগ সর্বসম্মতিতে এই রায় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা ছিলেন বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলাম, বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী (বর্তমান প্রধান বিচারপতি), বিচারপতি মো. রেজাউল হক, বিচারপতি এস এম এমদাদুল হক, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি ফারাহ মাহবুব।
রায়ে বলা হয়, আপিলগুলো সর্বসম্মতভাবে মঞ্জুর করা হয়েছে এবং সেই অনুযায়ী রিভিউ আবেদনগুলো নিষ্পত্তি করা হয়েছে। নথিপত্র পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১১ সালের আপিল বিভাগের রায়ে একাধিক ত্রুটি ছিল। ফলে সেই রায় সম্পূর্ণভাবে বাতিল করা হয়েছে।
এছাড়া ১৯৯৬ সালের ত্রয়োদশ সংশোধনীর ধারা ৩–এর মাধ্যমে সংবিধানের চতুর্থ ভাগে যুক্ত হওয়া ‘২ক পরিচ্ছেদ নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার’ সম্পর্কিত বিধানগুলো এই রায়ের মাধ্যমে পুনরুজ্জীবিত ও সক্রিয় করা হয়েছে বলে আপিল বিভাগ উল্লেখ করেছে।
রায়ে আরও বলা হয়, পুনরুজ্জীবিত বিধান অনুযায়ী সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৫৮খ (১) এবং ৫৮গ (২)–এর শর্ত সাপেক্ষে এ ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে পুনর্বহাল হওয়া ‘পরিচ্ছেদ ২ক’–এর বিধানগুলো কেবল ভবিষ্যৎ প্রয়োগযোগ্যতার ভিত্তিতে কার্যকর হবে।
আইনজীবীদের মতে, এই রায়ের ফলে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার সাংবিধানিক ভিত্তি পুনর্বহাল হলো, যা ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের পথ সুগম করতে পারে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি