বাগেরহাট প্রতিনিধি: বাগেরহাটের রামপালে বাস ও মাইক্রোবাসের ভয়াবহ মুখোমুখি সংঘর্ষে বর–কনেসহ অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন।
জানা যায়, এই দূর্ঘটনায় মোংলার বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাকের পরিবারের ১০ জনসহ মোট ১৩ জন নিহত হয়েছেন। আব্দুর রাজ্জাক মোংলা পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) খুলনা–মোংলা মহাসড়কের বেলাইব্রিজ এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের মরদেহ রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। বাকি নয়জনের মরদেহ রয়েছে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আহত কয়েকজনকে গুরুতর অবস্থায় একই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
নিহতরা হলেন, আব্দুর রাজ্জাক, তার স্ত্রী, ৩ ছেলে, ছেলের বউ, মেয়ে,আব্দুল্লাহ, সাব্বির, আল আমিন, মেয়ে, নাতি ৪ জন। আব্দুর রাজ্জাকের ভাই সাজ্জাক এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, মোংলা থেকে ছেড়ে আসা নৌবাহিনীর একটি বাস বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা মাইক্রোবাসটির সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর দুই গাড়ির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই কয়েকজন নিহত হন।
কাটাখালী হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) কে এম হাসানুজ্জামান বলেন, নৌবাহিনীর যাত্রীবাহী বাসটি খুলনার দিকে যাচ্ছিল। আর মাইক্রোবাসটি মোংলার দিকে যাচ্ছিল। বেলাইব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে দুটি গাড়ির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে গুরুতর আহতদের খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুকান্ত কুমার পাল জানান, দুর্ঘটনায় নিহত চারজনের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রয়েছে।
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক মেহেনাজ মোশাররফ বলেন, সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত হাসপাতালে আটজনের মরদেহ আনা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন শিশু, তিনজন নারী ও দুইজন পুরুষ। এছাড়া গুরুতর আহত অবস্থায় ভর্তি থাকা আরও একজন পরে মারা গেছেন।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু