| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জুলাই শহীদদের ত্যাগে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে: রাষ্ট্রপতি

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১২, ২০২৬ ইং | ১৬:৫৭:২৯:অপরাহ্ন  |  ৫৬৩৩৯৭ বার পঠিত
জুলাই শহীদদের ত্যাগে দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে: রাষ্ট্রপতি
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

রিপোর্টার্স২৪ডেস্ক: ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়ে গণতন্ত্রের পথে যাত্রা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।

বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ-এর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এ কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়ার বিধান রয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু হয়ে একপর্যায়ে এটি ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, শিক্ষক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, প্রবাসীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলেই ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন সরকারের পতন ঘটে।

তিনি বলেন, হাজারো শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে তাঁবেদার ও ফ্যাসিবাদমুক্ত নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে। দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে গুম, খুন, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড এবং আন্দোলনে নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও তিনি কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রপতি জানান, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে সহস্রাধিক মানুষ শহীদ হয়েছেন। নারী, পুরুষ ও শিশুসহ অসংখ্য মানুষ আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ চোখ হারিয়ে অন্ধত্বের শিকার হয়েছেন।

তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানে আহতদের দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা চলছে। ১৩৭ জন গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হয়েছে। আহতদের ১২ হাজার ৪৩টি স্বাস্থ্য কার্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ১৯৭১ সালের বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ২০২৪ সালের জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা সহায়তা ও ভাতা অনলাইন ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।

গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস সংরক্ষণে সরকারের নানা উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন রাষ্ট্রপতি। তিনি জানান, রাজধানীর ওসমানী উদ্যানে ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ’ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শহীদদের স্মরণে নির্দিষ্ট স্থানে ‘স্ট্রিট মেমোরি স্ট্যাম্প’ স্থাপন, কবর সংরক্ষণ, জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর প্রতিষ্ঠা এবং দেশের ৬৪ জেলায় স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের কাজ চলছে। এছাড়া জাতীয়ভাবে ৩৬ দিনব্যাপী ‘জুলাই পুনর্জাগরণ অনুষ্ঠানমালা-২০২৫’ বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

ভাষণের শুরুতে রাষ্ট্রপতি বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। শান্তিপূর্ণ, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে সংসদের যাত্রা শুরু হয়েছে। এ নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সব রাজনৈতিক দল এবং নির্বাচন আয়োজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের তিনি অভিনন্দন জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমান সংসদে তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও সমমনা দলগুলো দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়লাভ করেছে। তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর নেতৃত্বে গঠিত নতুন সরকারকে অভিনন্দন জানান।

ভাষণে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। একই সঙ্গে স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বীর উত্তম এবং তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া-এর অবদানের কথাও উল্লেখ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান এবং দেশের ইতিহাসের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের শহীদদের আকাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়তে সরকার কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪