স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর উত্তরার দুটি ফিলিং স্টেশনে তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। বুধবার দুপুরে দেখা যায়, আজমপুরের কসমো ফিলিং স্টেশন ও আব্দুল্লাহপুরের উত্তরা ফিলিং স্টেশনে ডিজেল ও অকটেন বিক্রি সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে। পাম্প দুটিতে তেলের কোনো সরবরাহ না থাকায় বিক্রি শুরু করা সম্ভব হচ্ছে না, কিন্তু তেলের আশায় মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার চালকরা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।
দক্ষিণখান এলাকা থেকে অকটেন নিতে আসা মোটরসাইকেল চালক সাকিব জানান, তিনি সকাল ৭টা থেকে লাইনে আছেন। দুপুর ২টা হলেও পাম্প থেকে তেল না আসায় বিক্রি শুরু হয়নি। পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তেলের গাড়ি এলে বিক্রি পুনরায় শুরু হবে, তবে গাড়ি পৌঁছাতে সন্ধ্যা হয়ে যেতে পারে। একইভাবে দিয়াবাড়ি এলাকার রিংকু মিয়া সকাল সাড়ে ৬টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। তিনি বলেন, গাড়ির মালিক ডিজেল নিয়ে আসার জন্য বলেছেন, কিন্তু তেলের গাড়ি আসার সময় এখনো নির্ধারিত হয়নি।
চালকরা ধারণা করছেন, সাম্প্রতিক ইরান-আমেরিকা উত্তেজনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক মানুষ বাড়িতে তেল মজুদ করায় সংকট তৈরি হয়েছে। উত্তরা সেক্টর-১১ এলাকার এক বাইক চালক বলেন, অনেকেই ২০–৩০ লিটার করে অকটেন সংগ্রহ করেছেন। এতে চাহিদা বেড়ে গেলে পাম্পগুলোতে তেলের অভাব দেখা দিয়েছে।
পাম্প কর্তৃপক্ষ জানাচ্ছেন, সমস্যার মূল কারণ হলো ডিপো থেকে তেল সরবরাহ না পাওয়া। আজমপুর কসমো ফিলিং স্টেশনের সহকারী ম্যানেজার মনির হোসেন বলেন, "ডিপো থেকে তেল না আসায় আমরা বিক্রি করতে পারছি না। বর্তমানে স্টেশনে ডিজেল, পেট্রোল ও অকটেন—কোনোটিই নেই। আশা করা হচ্ছে, সন্ধ্যার দিকে তেলের গাড়ি আসবে।"
আবদুল্লাহপুরের উত্তরা ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার মো. আখতার হোসেনও একই কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, ডিপোতে তেল পাঠানো হয়েছে, গাড়ি ফিরে এলে আবার বিক্রি শুরু করা হবে।
অন্যদিকে আব্দুল্লাহপুরের খন্দকার ফিলিং স্টেশনে তেল রয়েছে, কিন্তু সেখানে তেল নিতে আসা যানবাহনের ভিড় এবং লাইনের কারণে আশপাশের রাস্তায় যানজট তৈরি হয়েছে। স্টেশনটির ম্যানেজার জানিয়েছেন, তেল পর্যাপ্ত আছে এবং দাম বৃদ্ধি করা হয়নি, তবে অতিরিক্ত যানবাহনের কারণে স্থান সংকট তৈরি হয়েছে।
রাজধানীতে তেলের এই সংকটের কারণে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়িক যানবাহন চালকরা দৈনন্দিন যাতায়াত ও সরবরাহে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। পরিস্থিতি সাময়িক হলেও বিশেষ করে কাজের চাপে থাকা মানুষদের জন্য এটি জটিলতা সৃষ্টি করছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি