স্টাফ রিপোর্টার: মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র ও সাধারণ জনগণের জন্য আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। তিনি বলেছেন, যুদ্ধময়দানে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যাবে না। তাই জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্বদাতা ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য প্রদত্ত দায়মুক্তি (ইন্ডেমনিটি) জাতীয়ভাবে সম্মত হতে হবে।
বুধবার বিকেলে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে (বিসিসিএফসি) অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব মন্তব্য করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময়ও মানবাধিকার লঙ্ঘন হয়েছে। তবে যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া পদক্ষেপকে ‘এভরিথিং ইজ ফেয়ার ইন লাভ অ্যান্ড ওয়ার’ হিসেবে দেখা হয়। জুলাই অভ্যুত্থানের যারা নেতৃত্ব দিয়েছেন বা অংশ নিয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে দায়মুক্তি মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে ধরা যায় না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, যদি বলা হয়, ওই সময়ের রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে, তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের বিরুদ্ধে রাজাকার হত্যার দায়ে মামলা করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হবে। এজন্য নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে এক্সেপশন থাকা জরুরি। জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি অক্ষর আমরা বাস্তবায়ন করব, আর এতে জাতীয় সম্মতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য হিসেবে তারা জনগণের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে পেয়ো ম্যান্ডেট অনুযায়ী প্রতিনিধিত্ব করছেন। সংবিধান সংস্কার পরিষদের জন্য কোনো ব্যালটে ভোট হয়নি, তাই জবরদস্তি করে কোনো পদ চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, আমরা আলাপ-আলোচনা ও তর্ক-বিতর্কের মাধ্যমে জাতীয় সংসদে গণতন্ত্রকে বিকশিত করতে চাই। জাতীয় ঐকমত্য ও সত্যিকারের গণতান্ত্রিক চর্চা প্রকাশ করতে হবে।
সংলাপে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, মানবাধিকার কর্মী এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি