| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ১০, ২০২৬ ইং | ১৭:০৩:৩৬:অপরাহ্ন  |  ৫৬৯৬৭৩ বার পঠিত
নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে: ভূমিমন্ত্রী মিনু

স্টাফ রিপোর্টার: নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেডের প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও এটি রাজশাহীতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু।

তিনি বলেন, রাজশাহী দেশের ঐতিহ্যবাহী প্রাচীন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কেন্দ্র। ব্রিটিশ আমলেও বিদ্যুৎ বিভাগের সদর দপ্তর রাজশাহীতে ছিল। রাজশাহী ব্রিটিশ আমলের বিভাগীয় প্রশাসনিক কেন্দ্র, যার আওতায় দেশের উত্তরাঞ্চলের পাশাপাশি বর্তমান ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদা, পশ্চিম দিনাজপুর ও জলপাইগুড়ি জেলাও ছিল। রাজশাহীর প্রশাসনিক মর্যাদা ও গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়ে আমি বিদ্যুৎমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলব। নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহীতেই থাকবে।

এর আগে নেসকোর প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়ে স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে একটি আধাসরকারি (ডিও) চিঠি দেন।

প্রতিমন্ত্রীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে একটি কমিটি গঠন করেছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কমিটি গঠনের বিষয়টি সোমবার জানাজানি হলে রাজশাহীতে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। খোদ নেসকোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সূত্রে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য। নেসকোর প্রধান কার্যালয় বিভাগীয় শহর রাজশাহী থেকে নিজ জেলা বগুড়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছেন তিনি।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে পাঠানো ডিও চিঠিতে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, নেসকোর পরিচালন এলাকা উত্তরের পঞ্চগড় জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলা সদর থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শেষ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং পূর্ব-দক্ষিণের পাবনা জেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। কিন্তু সদর দপ্তর রাজশাহীতে হওয়ায় রংপুর বিভাগের অনেক কাজ যথাসময়ে সম্পন্ন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নেসকোর সার্বিক কার্যক্রমে বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের মধ্যবর্তী স্থান হিসেবে বগুড়া জেলায় নেসকোর সদর দপ্তর স্থাপন করা হলে অপারেশনাল কার্যক্রমে গতি আসবে। পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার, ব্যয় সাশ্রয়, প্রশাসনিক গতিশীলতা বৃদ্ধি এবং গ্রাহক সেবার মানোন্নয়নের স্বার্থে নেসকোর হেড অফিস বগুড়ায় স্থানান্তর সময়োপযোগী ও কৌশলগত সিদ্ধান্ত হবে।

প্রতিমন্ত্রীর ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ মার্চ বিদ্যুৎ বিভাগের কোম্পানি অ্যাফেয়ার্স-১ শাখার উপসচিব ফারজানা খানম মন্ত্রীর নির্দেশে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য একটি কমিটি গঠনের প্রজ্ঞাপন জারি করেন। কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (সমন্বয় অনুবিভাগ) মোহাম্মদ সানাউল হককে। পাশাপাশি বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের একজন প্রতিনিধিকে সদস্য রাখতে বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে রাজশাহী রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক জামাত খান বলেন, বিদ্যুৎ বিভাগ দুর্নীতিতে ভরা। রাজশাহীতে আমরা কিছু মানুষ আছি, যারা নেসকোর অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকি। বগুড়ায় চলে গেলে কথা বলার কেউ থাকবে না। আমরা চাই শিক্ষানগরী রাজশাহীতেই নেসকোর প্রধান কার্যালয় অটুট থাকুক। অন্যথায় নেসকো রক্ষায় রাজশাহীবাসী আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।

নেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মশিউর রহমান বলেন, লোকমুখে এমন কথা শুনেছি। তবে এ বিষয়ে কোনো চিঠিপত্র এখনো পাইনি। কর্মকর্তাদের কাছেও জানতে চেয়েছি, তারাও কিছু জানাতে পারেননি। সরকার যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবে, সেভাবেই চলতে হবে।

২০১৬ সালের ১ অক্টোবর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উত্তরাঞ্চলীয় ১৬ জেলা নিয়ে নেসকোর কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে ২০০৫ সালে বিউবোর আইনে নেসকোকে কোম্পানিতে রূপান্তর করা হয়। স্বায়ত্তশাসিত এই প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিন প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বিতরণ করে। নেসকোর বর্তমান গ্রাহক সংখ্যা প্রায় ১৮ লাখ। রাজশাহী মহানগরীর তিনটি ভবন থেকে বিতরণ, প্রশাসনিক ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এদিকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, সম্প্রতি নেসকোর অভ্যন্তরে কয়েকজন প্রভাবশালী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা প্রধান কার্যালয় রাজশাহী থেকে সরিয়ে বগুড়ায় স্থানান্তরের পক্ষে তৎপরতা চালাচ্ছেন।

অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেসকোর রাজশাহী বিভাগের নেতা নজরুল ইসলাম বলেন, বিদ্যুতের বিভাগীয় প্রধান কার্যালয় ব্রিটিশ আমল থেকেই রাজশাহীতে রয়েছে। এখানে নেসকোর সকল অবকাঠামো, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন ব্যবস্থা ও সরঞ্জাম মেরামত কারখানা রয়েছে। পাশাপাশি রাজশাহীতে বিমানবন্দর ও সহজ ট্রেন যোগাযোগ থাকায় ঢাকা ও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে সহজে যাতায়াত করা সম্ভব।

তিনি বলেন, রাজশাহীর বিভাগীয় ও প্রশাসনিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন করতেই এমন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নেসকো একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান। প্রধান কার্যালয় বগুড়ায় স্থানান্তর হলে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে।

রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪