রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে দেশের জ্বালানি তেলের বাজারে তৈরি হওয়া অস্থিরতা এখনও পুরোপুরি কাটেনি। এরই ধারাবাহিকতায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে মঙ্গলবার সকাল থেকেই দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ লাইন। তেল নিতে অনেক চালককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে নির্ধারিত সীমার মধ্যেই বিভিন্ন স্টেশনে জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশন ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সকাল থেকেই মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসসহ বিভিন্ন যানবাহন সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
রাজধানীর আসাদগেট এলাকার সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য তেল নিতে আসেন আমজাদ হোসেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ লাইনের ঝামেলা এড়াতে সকাল সকাল এসেছিলাম। কিন্তু এসে দেখি এখানেও বড় লাইন। তবে আশা করছি আরেক ঘণ্টার মধ্যে তেল নিয়ে যেতে পারব।
অন্যদিকে প্রাইভেটকার চালক ইদ্রিস মিয়া জানান, সীমিত পরিমাণে জ্বালানি দেওয়ার কারণে অনেক চালকের দৈনন্দিন চাহিদা পূরণ হচ্ছে না। তিনি বলেন, বর্তমানে ব্যক্তিগত গাড়িতে সর্বোচ্চ ১০ লিটার এবং এসইউভি বা মাইক্রোবাসে ২০ থেকে ২৫ লিটার পর্যন্ত তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে অনেকেই এক পাম্প থেকে আরেক পাম্পে ঘুরে তেল সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
মোটরসাইকেল চালক রবিউল হুসাইন জানান, তিনি প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তেল পেয়েছেন। হাসিমুখে তিনি বলেন, আজ সোনার বাংলা স্টেশনে মোটরসাইকেলের জন্য ৫০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। এতে অন্তত দুই দিন চালানো যাবে।
এদিকে ফিলিং স্টেশনের দায়িত্বশীলরা জানিয়েছেন, তাদের কাছে যতক্ষণ জ্বালানি মজুত থাকে ততক্ষণ বিক্রি করা হচ্ছে। তবে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) থেকে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম হওয়ায় পরিস্থিতি কিছুটা চাপে রয়েছে। তবুও আগের তুলনায় দীর্ঘ লাইনের সংখ্যা কিছুটা কমেছে বলে তারা দাবি করেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম