গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি: গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে সিয়াম মোল্লা নামে এক যুবককে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ডের পর তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি করতে গিয়ে সন্দেহভাজনদের ধরা পড়ার ঘটনা ঘটলে বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার (৯ মার্চ) রাতে উপজেলার বাঁশবাড়ীয়া ইউনিয়নের উত্তর পাড়ায় লিয়াকতের মাছের ঘেরের একটি পুকুর থেকে সিয়াম মোল্লার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত সিয়াম মোল্লা উপজেলার ঝুটিগ্রাম এলাকার লিখন মোল্লার ছেলে।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার রাতে সিয়ামকে তার দুই বন্ধু পারভেজ ও অভি বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর থেকে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি। অনেক খোঁজাখুঁজির পরও তার কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা বিষয়টি পুলিশকে জানান।
নিহতের মামা রিফাত মুন্সি বলেন, তার ভাগ্নেকে পরিকল্পিতভাবে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন করার উদ্দেশ্যে অভিযুক্তরা মরদেহটি একটি পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত দিদার মুন্সী ও পারভেজ মুন্সী ঘটনার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।
পুলিশ জানায়, হত্যার পর সিয়ামের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বিক্রি করার চেষ্টা করা হলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহভাজন একজনকে আটক করার পর তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঝুটিগ্রাম এলাকার দিদার ও পারভেজকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সরোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পিতভাবে সিয়াম মোল্লাকে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
তিনি আরও জানান, নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।