জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার ছোট-বড় ১৪টি খাল দখল ও ভরাট হয়ে যাওয়ায় প্রাকৃতিক পানি প্রবাহ ও জলজ জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়েছে। খালগুলো পুনঃখননের মাধ্যমে অতীতের স্বাভাবিক পানি প্রবাহ ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
উপজেলার খালগুলো দীর্ঘদিন মাটি ভরাট, দখলদারিত্ব ও মানবসৃষ্ট বাঁধার কারণে প্রায় নিশ্চিহ্ন হওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছেছে। ফলে বর্ষা মৌসুমে স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ ব্যাহত হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। সামান্য বৃষ্টিতেই শহর ও ফসলি মাঠে পানি জমে জনজীবনে দুর্ভোগ দেখা দেয়।
স্থানীয় কৃষক ও পরিবেশকর্মীরা জানান, খালগুলো খনন ও দখলমুক্ত করা হলে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বাড়বে এবং পরিবেশের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় খাল খননের বিকল্প নেই বলেও মত তাদের।
যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকাজ। প্রাকৃতিকভাবে এই উপজেলার মাটি কৃষিপণ্য উৎপাদনের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। সারা বছর এখানে ধান, পাট, আখ, সরিষা, তামাক, চিনাবাদাম, শাকসবজি, মসুর, ভুট্টা, গম ও পেঁয়াজসহ বিভিন্ন ফসল উৎপাদিত হয়।
রবিশস্য মৌসুমে উৎপাদিত বেগুন স্থানীয়ভাবে ব্যাপক জনপ্রিয় এবং দেশ-বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। তবে খাল ও জলাশয় ভরাট হয়ে যাওয়ায় কৃষকরা সেচের জন্য ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয়ভাবে মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত ইসলামপুর এখন মাছের উৎপাদনে পিছিয়ে পড়েছে। জলাশয় ভরাট ও দখলের কারণে প্রায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষ জলাবদ্ধতা ও সেচসংকটে ভোগান্তিতে পড়ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গাইবান্ধা ইউনিয়নের ফুলকার চর ছাইতন তলা থেকে চর গোয়ালিনী ইউনিয়নের কান্দার চর দশানী নদী পর্যন্ত গোপালনগর মৌজার প্রায় ৭ কিলোমিটার দীর্ঘ খালটি রয়েছে। এটি স্থানীয়ভাবে জিয়া খাল নামে পরিচিত, যা জিয়াউর রহমান সময় নিজ হাতে খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে পরিচিতি পায়।
এছাড়া পাথর্শী ইউনিয়নের দেলীর পাড় থেকে বৈশা বিল হয়ে যমুনা নদীর পাড় পর্যন্ত ৬ কিলোমিটার জিয়া খাল, লাওদত্ত ব্রিজ থেকে পাথরঘাটা পর্যন্ত পুটি খালসহ মোট ১৪টি খাল রয়েছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রেজুয়ানুল ইফতেকার বলেন, খালগুলো পুনঃখনন করা হলে জীববৈচিত্র্যের উন্নতি ঘটবে। এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে।
জিয়াউর রহমান ঘোষিত পরিকল্পনার ধারাবাহিকতায় এবং বর্তমান সরকারের উদ্যোগে সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা রয়েছে বলে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা আশা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, খালে সারা বছর পানি থাকলে দেশীয় মাছের প্রজনন বাড়বে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। পরিবেশবিদরা মনে করেন, খাল পুনঃখনন ভূগর্ভস্থ পানির স্তর স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক হবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন