স্টাফ রিপোর্টার: রোববার সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী সংক্রান্ত আপিল শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। এ মামলাটি প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে আপিল বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারিত হয়েছে। মামলাটি হাইকোর্টের ১৩ নভেম্বরের রায়ের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছিল, যার ওপর আপিল বিভাগ শুনানির অনুমতি দিয়েছে।
২০১১ সালের ৩০ জুন জাতীয় সংসদ পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পাস করে। রাষ্ট্রপতি ৩ জুলাই ২০১১ এটির অনুমোদন দেন। সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করা হয়, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান-কে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়া হয়, জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন সংখ্যা ৪৫ থেকে ৫০ করা হয়, ধর্মনিরপেক্ষতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা পুনর্বহাল করা হয় এবং রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার নীতি সংযোজন করা হয়। এছাড়া রাষ্ট্রক্ষমতার অপব্যবহারকে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে বিবেচনা করে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধানও সংযোজন করা হয়।
এই সংশোধনী বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ ব্যক্তি। ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন। হাইকোর্টের রায়ের মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের বিধান, সংবিধানের কিছু অনুচ্ছেদ এবং মৌলিক অধিকার সংক্রান্ত বিধানগুলো সংশোধনযোগ্য না ঘোষণা করা হয়। ফলে রায়ের মাধ্যমে গণভোটের বিধান পুনর্বহাল করা হয়।
এরপর সংশোধনী বাতিলের রায়ে অসন্তুষ্ট হয়ে, বদিউল আলম মজুমদার ও অন্যান্যরা লিভ টু আপিল দায়ের করেছেন। জামায়াত, বিএনপি, গণফোরাম ও কয়েকজন ব্যক্তি ও সংস্থা সহায়তাকারী (ইন্টারভেনার) হিসেবে আপিলের পক্ষে যুক্ত হয়েছেন।
রোববারের শুনানি এই আপিলের ওপর নির্ভর করবে, যা ভবিষ্যতে পঞ্চদশ সংশোধনীর বৈধতা ও সংবিধানের সঙ্গে সামঞ্জস্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি