| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ডিএনসিসির তহবিল নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিলেন প্রশাসক

reporter
  • আপডেট টাইম: মার্চ ০৬, ২০২৬ ইং | ০২:১৪:৪৬:পূর্বাহ্ন  |  ৫৮৩০৬২ বার পঠিত
ডিএনসিসির তহবিল নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তির ব্যাখ্যা দিলেন প্রশাসক

স্টাফ রিপোর্টার: ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) ব্যাংক হিসাবের অর্থ নিয়ে জনমনে সৃষ্টি হওয়া বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি জানিয়েছেন, সাবেক প্রশাসকের দাবি অনুযায়ী কর্পোরেশনের ব্যাংক হিসাবে ১,২৬০ কোটি টাকা নগদ ছিল—এ তথ্য সঠিক নয়।

মঙ্গলবার (৫ মার্চ) রাতে ডিএনসিসির জনসংযোগ কর্মকর্তা জোবায়ের হোসেনের মাধ্যমে সংবাদমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে প্রশাসক এ ব্যাখ্যা দেন।

বিবৃতিতে বলা হয়, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং বিভিন্ন ঠিকাদারি বিল পরিশোধ করা হয় কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মো. শফিকুল ইসলাম খান প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের সময় সাধারণ তহবিলে নগদ স্থিতি ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা। এছাড়া বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ৮২৫ কোটি টাকা সংরক্ষিত রয়েছে, যা আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য রাখা হয়েছে।

এর আগে সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ দাবি করেন, ডিএনসিসির ২৬টি ব্যাংক হিসাবে মোট ১,২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার টাকা জমা রয়েছে। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান প্রশাসক বলেন, প্রকৃতপক্ষে ওই হিসাবের মধ্যে ফিক্সড ডিপোজিটের অর্থ এবং বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিলের টাকা একত্র করে মোট পরিমাণ দেখানো হয়েছে, যা নগদ অর্থ হিসেবে ব্যবহারযোগ্য নয়।

ডিএনসিসি সূত্রে জানা যায়, ২০২৩–২৪ অর্থবছর শেষে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে সাধারণ তহবিলে ক্যাশ স্থিতি ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত কর্পোরেশনের রাজস্ব আদায় হয় ১,১৭৮ কোটি টাকা। ফলে ওই সময় মোট নগদ অর্থ দাঁড়ায় ১,৭৭৫ কোটি টাকা।

তবে সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের পর উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়ন করে বিভিন্ন প্রকল্প হাতে নেওয়ায় ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মোট ব্যয় হয় ১,৪৩৯ কোটি টাকা। এতে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে ক্যাশ স্থিতি কমে দাঁড়ায় ৩৩৬ কোটি টাকা।

পরবর্তী সময়ে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ৮২০ কোটি টাকা। এতে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে নগদ স্থিতি দাঁড়ায় ১,১৫৬ কোটি টাকা। তবে সাবেক প্রশাসক ওই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন প্রকল্পে ব্যয় করেন প্রায় ১,১৩১ কোটি টাকা। ফলে বর্তমান প্রশাসক দায়িত্ব গ্রহণের দিন অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাধারণ তহবিলে মাত্র ২৫ কোটি টাকা অবশিষ্ট ছিল।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সাবেক প্রশাসক ফিক্সড ডিপোজিটের ৮২৫ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল—যেমন জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল ও জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড (জিপিএফ)—এর প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা একত্র করে ১,২৬০ কোটি টাকার একটি হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেছেন, যা নগরবাসীর মধ্যে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে।

এছাড়া সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব ছাড়ার আগে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ৩৬টি বিল অনুমোদন করেন, যার বিপরীতে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কথা রয়েছে। এসব বিলের নথি বর্তমানে যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা প্রয়োজন। বিভ্রান্তি দূর করতেই এ ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

রিপোর্টার্স২৪/বাবি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪