স্টাফ রিপোর্টার: ঈদুল ফিতরের পর দেশে বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, সুপার ও সহকারী সুপারের মোট ১৩ হাজার ৫৯৯টি শূন্য পদে নিয়োগ দিতে যাচ্ছে সরকার। প্রথমবারের মতো এসব পদে নিয়োগ দেবে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)।
গত ২৯ জানুয়ারি শূন্য পদে নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। ৩ ফেব্রুয়ারি থেকে আবেদন গ্রহণ শুরু হয়ে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ৮০ হাজারের বেশি প্রার্থী বিভিন্ন পদে আবেদন করেছেন।
সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠান প্রধান পদে নিয়োগ পরীক্ষা আগামী ১৭ ও ১৮ এপ্রিল আয়োজনের সম্ভাব্য তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছিল। তবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন নির্ধারিত সময়সূচি বাতিল করে ঈদের পরপরই পরীক্ষা আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছেন। রোববার রাজধানীর ইস্কাটন গার্ডেন রোডে এনটিআরসিএ কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে তিনি বলেন, ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত অপেক্ষা না করে প্রয়োজনে ১৫ থেকে ২০ দিন এগিয়ে এনে দ্রুত পরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, মোট ১০০ নম্বরের পূর্ণাঙ্গ পরীক্ষার মাধ্যমে প্রার্থী নির্বাচন করা হবে। এর মধ্যে এমসিকিউ পদ্ধতিতে ৮০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষা, শিক্ষাগত যোগ্যতার ভিত্তিতে ১২ নম্বর এবং মৌখিক পরীক্ষার জন্য ৮ নম্বর নির্ধারিত। লিখিত পরীক্ষার সময় এক ঘণ্টা; এতে ৮০টি নৈর্ব্যক্তিক প্রশ্ন থাকবে। প্রতিটি সঠিক উত্তরের জন্য ১ নম্বর এবং ভুল উত্তরের জন্য ০.২৫ নম্বর কাটা হবে। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ প্রার্থীদের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে। প্রতিটি ধাপে কমপক্ষে ৪০ শতাংশ নম্বর পেতে হবে।
পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, আইসিটি, মানসিক দক্ষতা ও গাণিতিক যুক্তি, সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক), প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা থেকে প্রশ্ন থাকবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের ধরন অনুযায়ী শিক্ষা ব্যবস্থাপনা ও বিষয়ভিত্তিক মৌলিক জ্ঞানের ওপরও মূল্যায়ন করা হবে। নিয়োগে সর্বশেষ জারি করা জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা অনুসরণ করা হবে।
আবেদনের পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে ৩ হাজার ৮৭২টি শূন্যপদের বিপরীতে আবেদন করেছেন ২৬ হাজার ৮২৬ জন—যা সর্বোচ্চ। ৩ হাজার ৯২৩টি প্রধান শিক্ষক পদের জন্য আবেদন করেছেন ১৯ হাজার ৮৩৮ জন। ডিগ্রি পাস কলেজের ৬২৭টি উপাধ্যক্ষ পদের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৬ হাজার ৮২টি। এছাড়া বিভিন্ন স্তরের মাদ্রাসা ও কলেজ মিলিয়ে বাকি পদগুলোতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সাল থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ এনটিআরসিএর মাধ্যমে সম্পন্ন হলেও প্রতিষ্ঠান প্রধান ও সহপ্রধান নিয়োগ পরিচালনা করত সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদ। এ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠায় এবার কেন্দ্রীয়ভাবে এনটিআরসিএর মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি