স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীর মতিঝিলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষের কাটা হাত, পা, মাথাসহ দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। দুই হাতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে; তিনি নরসিংদীর শিবপুরের তাতার গ্রামের আব্দুল হামিদ মিয়ার ছেলে ওবায়দুল্লাহ। হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তার রুমমেট শাহীন আলমকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মতিঝিল বিভাগের ডিসি হারুন-অর-রশীদ রোববার (১ মার্চ) ঢাকা মহানগর পুলিশের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে জানান, হত্যার মূল কারণ অনৈতিক প্রস্তাব ও ঝগড়া-বিবাদ। রাতের বেলায় ঝগড়া-সহ অনৈতিক প্রস্তাবের কারণে শাহীন ওবায়দুল্লাহকে চাপাতি দিয়ে ঘাড় ও গলায় কুপিয়ে হত্যা করে। পরে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মরদেহকে সাতটি খণ্ডে ভাগ করে শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
ডিসি হারুন-অর-রশীদ জানান, নিহতের দেহের কিছু অংশ এখনো উদ্ধার হয়নি। আমিনবাজারের সালিপুর ব্রিজ থেকে একটি অংশ ফেলে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে উদ্ধার অভিযান চলমান। শাহীন হত্যার পরও স্বাভাবিকভাবে হোটেলে কাজ চালিয়ে যেত। হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে হিরাঝিল হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে শাহীন জানিয়েছে, রাতে ওবায়দুল্লাহ তাকে সিগারেট আনতে বললেও পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে তা আনতে পারেনি। এরপর কাবাব ও নানরুটি আনার সময়ও ঘটনা উত্তেজনায় পৌঁছায়; নিহত ব্যক্তি একাই খাবার খেয়ে ফেলায় ঝগড়া শুরু হয়। রাতে ওবায়দুল্লাহ জোরে কথা বলায় শাহীন বিরক্ত হন। একপর্যায়ে তিনি তাকে হত্যা করেন এবং দেহের খণ্ড খণ্ড অংশ শহরের বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন।
পুলিশ জানায়, নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারের বিপরীতে দুটি হাত, বায়তুল মোকাররমের একটি গেটের পাশে একটি পা, কমলাপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় মাথার অংশ ফেলা হয়েছিল। মতিঝিলে কমলাপুর এলাকায় ময়লাবোঝাই কনটেইনারে দেহের অন্যান্য অংশ ফেলা হয়েছিল। সিসিটিভি ফুটেজ ও স্বীকারোক্তির মাধ্যমে শাহীনের ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা হয়েছে।
হতাহতের দেহাবশেষের উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা শহরের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি