স্পোর্টস ডেস্ক: ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে রমজান মাসে রোজা ভাঙার জন্য খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখায় কিছু সমর্থকের দুয়ো দেওয়ার ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ম্যানচেস্টার সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা। তিনি সমর্থকদের ধর্ম ও বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার এল্যান্ড রোডে লিডস ইউনাইটেডের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ে ম্যাচের ১৩তম মিনিটে খেলা থামানো হয়। সূর্যাস্তের পর মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতার করার সুযোগ দিতে এই বিরতি দেওয়া হয়। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় বিষয়টি জানানো হলেও একাংশ দর্শক এ সময় দুয়ো দেন।
ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেন, এটা আধুনিক বিশ্ব। আজ বিশ্বে কী হচ্ছে, তা আমরা দেখছি। ধর্ম ও বৈচিত্র্যকে সম্মান করতে হবে—এটাই মূল কথা। প্রিমিয়ার লিগ কয়েক মিনিট সময় দেওয়ার অনুমতি দিয়েছে, যাতে রোজাদার খেলোয়াড়রা ইফতার করতে পারে। এতে সমস্যা কোথায়?
তিনি আরও জানান, রায়ান শেরকি ও রায়ান আইত-নুরিসহ কয়েকজন খেলোয়াড় সারাদিন না খেয়ে ছিলেন। আমরা শুধু সামান্য ভিটামিন নিয়েছি। বিষয়টি খুব স্বাভাবিক, বলেন তিনি।
লিডস ইউনাইটেডের সহকারী কোচ এডমুন্ড রিমার—যিনি প্রধান কোচ ড্যানিয়েল ফার্কের পরিবর্তে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—ঘটনাটিকে “হতাশাজনক” আখ্যা দেন। তিনি বলেন, আমি খেলায় মনোযোগী থাকায় সরাসরি শুনিনি, তবে পরে জেনেছি। কিছু সমর্থক এমনটি করেছেন। আমাদের শিখতে হবে, ভবিষ্যতে আরও ভালো করতে হবে।
রমজান মাসে মুসলিম খেলোয়াড়দের ইফতারের জন্য খেলা সাময়িকভাবে থামানো সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপীয় ফুটবলে নিয়মিত চর্চায় পরিণত হয়েছে। গার্দিওলা আগেই জানিয়েছিলেন, তাঁর দলের মুসলিম খেলোয়াড়রা পেশাদারিত্ব বজায় রেখেই রোজা পালন করেন এবং পুষ্টিবিদরা সে অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করেন।
বৈষম্যবিরোধী সংস্থা Kick It Out এক বিবৃতিতে জানায়, মুসলিম খেলোয়াড়দের রোজা ভাঙার সময় দুয়ো দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। সংস্থাটি উল্লেখ করে, রমজানে ইফতারের জন্য খেলা থামানো কয়েক বছর ধরে স্বীকৃত প্রোটোকল এবং এটি মুসলিম খেলোয়াড় ও সম্প্রদায়ের জন্য ফুটবলকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করে তোলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে সংস্থাটি বলেছে, শিক্ষা ও গ্রহণযোগ্যতার ক্ষেত্রে ফুটবলের এখনও অনেক পথ পাড়ি দেওয়া বাকি।
রিপোর্টার্স২৪/বাবি