রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিদ্যুৎ খাতের বিপুল ঋণ ও লোকসান নিয়ে সরব হলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, “আমরা লোডশেডিং রেখে গিয়েছিলাম সেটা সত্য। কিন্তু জাতির কাঁধে বোঝা চাপিয়ে যাইনি। এখন বাতি জ্বলছে ঠিকই, তবে ঋণের ভার অনেক বেশি। ঋণে ডুবে থাকার চেয়ে কষ্ট করে থাকা ভালো।”
বৃহস্পতিবার বিকেলে সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফোরাম ফর এনার্জি রিপোর্টার্স বাংলাদেশ–এর নির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
এর আগে অর্থ উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর–এর সঙ্গে বৈঠকে বিদ্যুৎ খাতের ৭৬ হাজার কোটি টাকা বকেয়া ও লোকসান নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)–এর কাছে বিভিন্ন কোম্পানির পাওনা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। এছাড়া সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পুঞ্জীভূত লোকসান প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা।
মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, এই বিপুল বকেয়া পরিশোধ না হলে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
মন্ত্রী বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র হয়েছে, কিন্তু জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেই। কোথাও উৎপাদন সক্ষমতা থাকলেও বসিয়ে রেখে ক্যাপাসিটি পেমেন্ট দিতে হচ্ছে পুরো পরিস্থিতি হযবরল।
তিনি জানান, তার দায়িত্বকালে সিস্টেম লস ছিল ৬ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তার ভাষায়, ১ শতাংশ সিস্টেম লস মানে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ক্ষতি। প্রাথমিকভাবে এটি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, চূড়ান্ত লক্ষ্য ৩ শতাংশ।
তিনি সতর্ক করে বলেন, লোকসান কমানো না গেলে আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থার চাপ বাড়তে পারে। বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে সমঝোতার পথও খোঁজা হচ্ছে, যাতে উভয় পক্ষের স্বার্থ রক্ষা পায়।
জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সংকট নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা নতুন কিছু নয়। কূপ খনন হয়নি বলেই সংকট। বিদেশ নির্ভরতা কমিয়ে দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেওয়ার কথা জানান তিনি। এজন্য নতুন রিগ কেনা এবং দক্ষ জনবল তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম