রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চাইলে দায়িত্বে থাকবেন, আর না চাইলে ‘সম্মানজনকভাবে সরে’ যাবেন-এমন মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। সম্প্রতি বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে বেসরকারি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন।
‘থাকতে চাই না’ মন্তব্যের ব্যাখ্যা
বিদেশি গণমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পর আর দেশে থাকতে চান না- এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার বক্তব্য ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় নানা ঘটনায় মানসিক চাপ ও অপমানের অভিজ্ঞতা থেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। এভাবে রাষ্ট্রপতি থাকা যায় না, চলে যেতে ইচ্ছা করে- এই কথাটি সেই প্রেক্ষাপটেই বলা হয়েছিল বলে জানান তিনি।
৫ আগস্টের ঘটনাপ্রবাহ: ‘৩০–৪০ মিনিটে সব বদলে যায়’
সাক্ষাৎকারে সেই দিনের স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আন্দোলন জনবিস্ফোরণে রূপ নেয়। সে দিন হঠাৎ করেই পরিস্থিতির দ্রুত পরিবর্তন ঘটে। তাকে জানানো হয়, প্রধানমন্ত্রী বঙ্গভবনে আসতে পারেন এবং হেলিকপ্টার প্রস্তুত। পরে জানানো হয়, তিনি আর আসছেন না। অল্প সময়ের মধ্যেই জানা যায়, তিনি দেশ ছেড়েছেন। ৩০ থেকে ৪০ মিনিটের মধ্যে সামগ্রিক ঘটনাপ্রবাহের দ্রুত পরিবর্তন দেখেছি, বলেন তিনি।
সেনাপ্রধানের ব্রিফিং ও রাজনৈতিক বৈঠক
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, বিকেল ৩টার দিকে সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার-উজ-জামান তাকে ফোনে পরিস্থিতি জানান এবং পরে সংবাদমাধ্যমে ব্রিফিং দেন। এরপর সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী প্রধান বঙ্গভবনে এসে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন।
পরবর্তীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বঙ্গভবনে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতির সভাপতিত্বে সেই বৈঠকে দেশের শান্তি ও স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার উপায় নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়।
অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত
বৈঠকে তত্ত্বাবধায়ক সরকার, সর্বদলীয় বা জাতীয় সরকার এবং অন্তর্বর্তী সরকার- এই তিনটি প্রস্তাব ওঠে। আলোচনা শেষে ‘অন্তর্বর্তী সরকার’ গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। রাষ্ট্রপতির ওপর দায়িত্ব পড়ে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার। পরে তিনি রাত ১১টায় ভাষণ দেন এবং সরকার গঠনের প্রক্রিয়া রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সেনাবাহিনীর সমন্বয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতি বলেন, সে সময় দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করা এবং স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ছিল প্রধান লক্ষ্য। বর্তমান পরিস্থিতিতেও তিনি সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সূত্র: কালেরকণ্ঠ
রিপোর্টার্স২৪/আরকে