| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আজ শুনানি

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২৪, ২০২৬ ইং | ১০:২৩:৫৭:পূর্বাহ্ন  |  ৬২৯৬৫১ বার পঠিত
হাসিনা-কামালের সাজা বাড়াতে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল আজ শুনানি

রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: চব্বিশের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল এর বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের একটি অংশ চ্যালেঞ্জ করে রাষ্ট্রপক্ষের করা আপিলের শুনানি আজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের দাবি যে অভিযোগে দুই আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে, সেটিও মৃত্যুদণ্ডে রূপান্তর করা হোক। এ সংক্রান্ত আপিল আজ বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট-এর আপিল বিভাগের নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের আবেদনের পর বিচারপতি মো. রেজাউল হক-এর চেম্বার আদালত বিষয়টি আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য নির্ধারণ করেন। আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানি উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম।

চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালকে দুটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। একটিতে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্যটিতে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষ সেই আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা বাতিল করে উভয় অভিযোগেই মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিত করার আবেদন জানিয়েছে। আপিলে আটটি পৃথক গ্রাউন্ড বা আইনি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়েছে।

মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দুই শীর্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একই মামলায় রাজসাক্ষী হওয়া সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন-কে দেওয়া হয় ৫ বছরের কারাদণ্ড।

গত ১৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার-এর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল ঐতিহাসিক এই রায় ঘোষণা করেন।

প্রসিকিউশন পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম ছাড়াও প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, গাজী এস. এইচ. তামিম, বিএম সুলতান মাহমুদ, শাইখ মাহদি, আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।

অন্যদিকে পলাতক শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন শুনানি করেন। রাজসাক্ষী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা হিসেবে বক্তব্য দেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

এই মামলাকে ঐতিহাসিক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতাসহ স্বজনহারা পরিবারের সদস্যরা আদালতে সাক্ষ্য দেন।

স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক ও জুলাই আন্দোলনের অন্যতম নেতৃত্বদানকারী নাহিদ ইসলাম এবং দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। সর্বমোট ৫৪ জন সাক্ষী এই মামলায় সাক্ষ্য প্রদান করেন।

গত ১০ জুলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।

পরবর্তীতে ঘটনার সত্যতা উদ্ঘাটনে রাজসাক্ষী হিসেবে দোষ স্বীকার করেন সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, দলীয় ক্যাডার ও প্রশাসনের একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল এমন অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একের পর এক মামলা জমা পড়ে। বর্তমানে দুটি ট্রাইব্যুনালে এসব অভিযোগের বিচার কার্যক্রম চলছে।

আজকের শুনানিকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে তীব্র আগ্রহ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয় আপিল বিভাগ রাষ্ট্রপক্ষের দাবি কতটা গ্রহণ করে এবং ইতিহাসের এই আলোচিত মামলায় চূড়ান্ত পরিণতি কোন দিকে গড়ায়।


রিপোর্টার্স২৪/ঝুম

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪