রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: গত বছর ৩০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি-এর সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে জয়ী সাংবাদিক নেতারা রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন-এর আমন্ত্রণে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, এই ঘটনার পর তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুর রহমানের অসন্তোষের জেরে বঙ্গভবনের প্রেস উইং কার্যত অচল করে দেওয়া হয়। পুরো প্রেস উইং প্রত্যাহার করে নেওয়া হয় এবং এরপর থেকে বঙ্গভবনে কার্যকর কোনো প্রেস উইং নেই। এমনকি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় দিবসে রাষ্ট্রপতির বাণীও পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত হয়নি বলে তিনি দাবি করেন।
শুক্রবার রাতে বঙ্গভবনে নিজ কার্যালয়ে কালের কণ্ঠ-কে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ করেন রাষ্ট্রপতি।
রাষ্ট্রপতির ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির নবনির্বাচিত কমিটির সদস্যরা সৌজন্য সাক্ষাতে এলে তিনি সাংবাদিকবান্ধব মনোভাব থেকেই তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এটি ছিল সংক্ষিপ্ত বৈঠক ও একটি ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ।
কিন্তু পরদিন কয়েকটি পত্রিকায় ছবিসহ সংবাদ প্রকাশ হলে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং বিষয়টি নেতিবাচকভাবে নেয়। এরপর বঙ্গভবনের প্রেস উইংয়ের কে এ ঘটনায় জড়িত—তা খুঁজে বের করার চেষ্টা শুরু হয়। রাষ্ট্রপতির দাবি, বাস্তবে প্রেস উইংয়ের কেউ এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না; তিনিই আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
তারপরও প্রেস সেক্রেটারি, ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি ও অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রেস সেক্রেটারিসহ তিনজনকে একযোগে প্রত্যাহার করা হয়। দীর্ঘ ৩০ বছর দায়িত্ব পালন করা দুইজন ফটোগ্রাফারকেও সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে পুরো প্রেস উইং ভেঙে পড়ে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বর্তমানে বঙ্গভবন থেকে কোনো প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এমনকি জাতীয় ক্রিকেট দল আন্তর্জাতিক ম্যাচ জিতলেও রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানিয়ে একটি সাধারণ প্রেস বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার সুযোগ নেই।
তিনি আরও জানান, প্রেস উইং সচল করার জন্য তিনি ক্যাবিনেট সেক্রেটারি, প্রিন্সিপাল সেক্রেটারি ও এস্টাবলিশমেন্ট সেক্রেটারির সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও কার্যকর সাড়া মেলেনি।
রাষ্ট্রপতির অভিযোগ, জনগণের কাছে তাঁর উপস্থিতি সীমিত করার উদ্দেশ্যেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। জাতীয় দিবস উপলক্ষে প্রকাশিত রাষ্ট্রীয় ক্রোড়পত্রে তাঁর ছবি ও বাণী প্রকাশ বন্ধ করে দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। গত দেড় বছরে তাঁর কোনো বাণী রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রকাশিত হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান এবং সর্বোচ্চ প্রতিষ্ঠানিক পদাধিকারী। বঙ্গভবন কেবল আনুষ্ঠানিক বাসভবন নয়; এটি একটি পূর্ণাঙ্গ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান। সেই হিসেবে রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং রাষ্ট্র পরিচালনার যোগাযোগ কাঠামোর গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
রাষ্ট্রীয় প্রোটোকল অনুযায়ী প্রেস উইংয়ের দায়িত্ব হলো রাষ্ট্রপতির কর্মকাণ্ড, বক্তব্য, বাণী ও রাষ্ট্রীয় অবস্থান জনগণ ও গণমাধ্যমের কাছে পৌঁছে দেওয়া। বিশ্বের অধিকাংশ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রেই রাষ্ট্রপ্রধানের প্রেস উইং সরকারপ্রধানের দপ্তর থেকে পৃথক প্রশাসনিক কাঠামোর অধীনে পরিচালিত হয়।
রাষ্ট্রীয় প্রথা অনুযায়ী জাতীয় দিবসের ক্রোড়পত্র ও সরকারি প্রকাশনায় রাষ্ট্রপতির ছবি ও বাণী অন্তর্ভুক্ত থাকা দীর্ঘদিনের রেওয়াজ। এটি রাষ্ট্রের প্রতীকী ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন