| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ঠাকুরগাঁওয়ে বট–পাকুড়ের বিয়ে, লোকাচারে মুখর গ্রাম

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৬ ইং | ১৪:৫১:৩৭:অপরাহ্ন  |  ৬৩৯৪২৩ বার পঠিত
ঠাকুরগাঁওয়ে বট–পাকুড়ের বিয়ে, লোকাচারে মুখর গ্রাম

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি: ঢাকের তালে তালে ভেসে আসছে সানাইয়ের সুর, চারপাশে বর্ণিল সাজসজ্জা। আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের পদচারণায় উৎসবের আবহ। সবকিছু মিলিয়ে যেন একটি জমজমাট বিয়েবাড়ি। তবে এই বিয়ের বর–কনে মানুষ নয়, বর পাকুড়গাছ,আর কনে বটগাছ।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নের কিসমত পাহাড়ভাঙ্গা গ্রামে শুক্রবার সনাতন ধর্মীয় রীতিতে সম্পন্ন হয়েছে এই ব্যতিক্রমী আয়োজন। মানুষের বিয়ের আদলে গায়েহলুদ, মণ্ডপসজ্জা, মন্ত্রোচ্চারণ থেকে শুরু করে মধ্যাহ্নভোজ সব আয়োজনই ছিল পূর্ণাঙ্গ।

এর আগে বৃহস্পতিবার গায়ে হলুদ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার দুপুরে কালীমন্দির সংলগ্ন পুকুরপাড়ে সাজানো মণ্ডপে পাকুড়গাছকে পরানো হয় সাদা ধুতি, আর বটগাছকে সাজানো হয় লাল-হলুদ শাড়ি ও ফুলের মালায়। মণ্ডপজুড়ে ছিল আলপনার নকশা। ধান, দুর্বা, হলুদ, সিঁদুর, ধূপকাঠি, কলা, দই ও নানা মিষ্টান্নে পূর্ণ ছিল পূজার বেদি। পুরোহিতের মন্ত্রোচ্চারণ, উলুধ্বনি, ঢাক, কাঁসর ও সানাইয়ের সুরে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

বেলা আড়াইটার দিকে ধর্মীয় রীতি অনুযায়ী মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে সাত পাকে আবদ্ধ করা হয় বর ও কনেকে। উপস্থিত অতিথিরা উপহার দিয়ে আশীর্বাদ জানান। পরে আয়োজন করা হয় মধ্যাহ্নভোজের।

এই বিয়েতে কনেপক্ষের দায়িত্ব পালন করেন চিলারং গ্রামের পরিমল চন্দ্র বর্মন (৫৫) এবং বরপক্ষের দায়িত্বে ছিলেন কিসমত পাহাড়ভাঙ্গা গ্রামের বলরাম সরকার (৬০)। তাঁরা জানান, কয়েক বছর আগে লাগানো এই বট ও পাকুড়গাছের কল্যাণ কামনায় এবং প্রবীণদের পরামর্শে এই বিয়ের আয়োজন করা হয়েছে। প্রায় ৪০০ পরিবারকে নিমন্ত্রণ জানানো হয় এ অনুষ্ঠানে।

বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা পরিচালনা করা পুরোহিত শুভন চক্রবর্তী বলেন, বট ও পাকুড় হিন্দুধর্মে পবিত্র বৃক্ষ হিসেবে বিবেচিত। পূজা–অর্চনায় এই গাছের বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। মূলত মানুষের মোক্ষলাভ, প্রকৃতির মঙ্গল এবং বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যেই এ ধরনের আয়োজন করা হয়।

ব্যতিক্রমী এই বিয়ে দেখতে আশপাশের বিভিন্ন গ্রাম থেকে ছুটে আসেন অসংখ্য মানুষ। স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক ইউপি সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, বট–পাকুড়ের বিয়ের কথা শুনলেও সরাসরি দেখার সুযোগ হয়নি আগে। নিমন্ত্রণ পেয়ে কৌতূহল থেকেই এখানে এসেছি।

ঠাকুরগাঁওয়ের প্রবীণ শিক্ষাবিদ মনতোষ কুমার দে বলেন, বট–পাকুড়ের বিয়ে মূলত একটি প্রাচীন লোকাচার, যা পরিবেশ সংরক্ষণ ও বৃক্ষপ্রেমের প্রতীক। এ ধরনের আয়োজন মানুষকে প্রকৃতির প্রতি আরও শ্রদ্ধাশীল হতে উদ্বুদ্ধ করে।

লোকজ সংস্কৃতি ও প্রকৃতি প্রেমের অনন্য সংমিশ্রণে এই বট–পাকুড়ের বিয়ে গ্রামবাসীর মনে সৃষ্টি করেছে ভিন্নমাত্রার আনন্দ, আর ছড়িয়ে দিয়েছে পরিবেশ রক্ষার এক গভীর বার্তা।

রিপোর্টার্স২৪/মিতু 


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪