স্টাফ রিপোর্টার: বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বন্ধ থাকা রেলযোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়ে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানিয়েছেন সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি মূল্যায়ন করছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী, সচিব এবং রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জানান, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ ঐতিহাসিক ও অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের জনগণের যাতায়াত সহজ করা, বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং আঞ্চলিক সংযোগ জোরদারের লক্ষ্যে সরকার এ বিষয়ে গুরুত্বসহকারে কাজ করছে। তবে পুনরায় রেল চলাচল শুরু করার আগে দেশের স্বার্থ, নিরাপত্তা, যাত্রীসুবিধা, অবকাঠামোগত সক্ষমতা এবং কারিগরি সামর্থ্য—সবকিছু বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, রেল যোগাযোগ চালুর ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া নয়, টেকসই ও কার্যকর সিদ্ধান্তই আমাদের লক্ষ্য। রেললাইন, সিগন্যালিং ব্যবস্থা, ইমিগ্রেশন সুবিধা, লোকোমোটিভ ও কোচের প্রাপ্যতা—সব বিষয় পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
রেল খাতের সার্বিক উন্নয়ন প্রসঙ্গে মন্ত্রী আরও বলেন, অতীতে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে সমন্বয়হীনতার কারণে অনেক স্থানে রেললাইন নির্মাণ সম্পন্ন হলেও ইঞ্জিন ও বগির অভাবে ট্রেন চালু করা যায়নি। এতে জনসাধারণ প্রত্যাশিত সেবা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এসব প্রকল্প পুনর্মূল্যায়ন করে কোথায় ঘাটতি রয়েছে তা চিহ্নিত করা হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের ভেতরেই ইঞ্জিন ও বগি তৈরির সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে কারিগরি সক্ষমতা, বিনিয়োগ প্রয়োজনীয়তা এবং সম্ভাব্য যৌথ উদ্যোগের বিষয়গুলো বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। দেশীয়ভাবে রেল ইঞ্জিন ও কোচ উৎপাদন সম্ভব হলে দীর্ঘমেয়াদে ব্যয় সাশ্রয় হবে এবং রেল খাতে স্বনির্ভরতা বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়েও কথা বলেন মন্ত্রী। তার ভাষ্য, প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা কমাতে দরপত্র প্রক্রিয়া সহজ ও সমন্বিত করা হচ্ছে। সময়মতো কাজ শেষ করতে তদারকি জোরদার এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোর উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকা–চট্টগ্রামসহ ব্যস্ত রেলপথে যাত্রার সময় কমাতে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ডাবল লাইন সম্প্রসারণ এবং আধুনিক সিগন্যালিং ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে যাত্রীসেবার মানোন্নয়ন, অনলাইন টিকিটিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং ঈদসহ বড় উৎসবকে কেন্দ্র করে টিকিট বিক্রিতে শৃঙ্খলা আনার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, রেল খাতকে আধুনিক, সময়োপযোগী ও জনগণমুখী করে গড়ে তুলতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আঞ্চলিক যোগাযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ সেবার মান উন্নয়নই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার।
সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বাংলাদেশ–ভারত রেলযোগাযোগ পুনরায় চালু হলে তা দুই দেশের অর্থনীতি ও জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সরকার আশা করছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে সবদিক বিবেচনায় নিয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হবে।