রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: জুলাই গণঅভ্যুত্থানে রাজধানীর রামপুরায় একজনকে আহত ও দুজনকে হত্যার ঘটনায় সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানসহ পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় রায় কবে হবে—সে বিষয়ে আজ সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে তারিখ নির্ধারণ করবেন। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
মামলায় গ্রেপ্তার রয়েছেন রামপুরা পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন এএসআই চঞ্চল চন্দ্র সরকার। হাবিবসহ বাকি চার আসামি পলাতক। তারা হলেন—খিলগাঁও জোনের সাবেক এডিসি মো. রাশেদুল ইসলাম, রামপুরা থানার সাবেক ওসি মো. মশিউর রহমান এবং রামপুরা থানার সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভুঁইয়া।
এর আগে গত ৩ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তি-খণ্ডন পর্ব শেষ হয়। ওইদিন চঞ্চল চন্দ্র সরকারের খালাস চান তার আইনজীবী সারওয়ার জাহান নিপ্পন। তিনি দাবি করেন, প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের সঙ্গে তার মক্কেলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। একই সঙ্গে পলাতক চার আসামির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে তাদের নিরপরাধ দাবি করেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী মো. আমির হোসেন। প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম তাৎক্ষণিকভাবে এসব যুক্তি খণ্ডন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে রায় ঘোষণার চূড়ান্ত তারিখ নির্ধারণের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
গত ২৯ জানুয়ারি প্রসিকিউশন তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করে। তারা দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ, ভিডিও ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দিতে পাঁচ আসামির সম্পৃক্ততা স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে। একই সঙ্গে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রার্থনা করা হয়।
উল্লেখ্য, গত বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর পাঁচ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-১। এর আগে ৭ আগস্ট প্রসিকিউশন ফরমাল চার্জ দাখিল করে।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই প্রাণ বাঁচাতে রামপুরার বনশ্রী-মেরাদিয়া সড়কের পাশে একটি নির্মাণাধীন ভবনে ওঠেন আমির হোসেন নামের এক তরুণ। সে সময় পুলিশ তার পিছু নেয় এবং এক পর্যায়ে ছাদের কার্নিশের রড ধরে ঝুলে থাকা অবস্থায় তার ওপর ছয় রাউন্ড গুলি ছোড়া হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই দিন বনশ্রী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নাদিম ও মায়া ইসলাম নিহত হন।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে