স্টাফ রিপোর্টার: নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইলের ধনকুন্ডা পপুলার হাই স্কুল কেন্দ্রে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে রাতে ব্যালট পেপারে সিল দেওয়ার অভিযোগ তুলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী এ অভিযোগ করলেও জামায়াতে ইসলামী তা অস্বীকার করেছে।
বুধবার(১১ ফেব্রুয়ারি) রাতে কেন্দ্রটিতে এ ঘটনাকে ঘিরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কেন্দ্রের একটি কক্ষে ব্যালট পেপার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকতে দেখা যায়।
ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজহারুল ইসলাম মান্নান অভিযোগ করেন, কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. বশিরুল হক ভূঁইয়া জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তার সহযোগিতায় রাতে ব্যালট পেপার খোলা হয় এবং সিল দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তা বশিরুল হক ভূঁইয়া মুঠোফোনে বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে বিএনপির লোকজন সিনক্রিয়েট করছে।’ দলীয় পরিচয়ের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি কল কেটে দেন। পরে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
জামায়াতে ইসলামীর নারায়ণগঞ্জ মহানগর আমির মাওলানা আবদুল জব্বার বলেন, বশিরুল হক ভূঁইয়া অতীতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা শাখার আমির ছিলেন। তবে কেন্দ্রের ঘটনায় ‘মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে গুজব তৈরি করা হচ্ছে’ বলে দাবি করেন তিনি।
অন্যদিকে, আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কোনো কেন্দ্রে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি জানেন না।
খবর পেয়ে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা কেন্দ্রে যান। কেন্দ্রের ভেতরে সাংবাদিক ও সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
পরে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহীনা ইসলাম চৌধুরী সাংবাদিকদের জানান, নির্বাচনের আগে নিয়মিত প্রস্তুতিমূলক কাজ হিসেবে ভোটার তালিকা অনুযায়ী ব্যালট পেপারের সংখ্যা যাচাই করা হচ্ছিল। সেখানে বাইরের কেউ উপস্থিত ছিলেন না এবং কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি।
প্রিসাইডিং কর্মকর্তার রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি বলেন, তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোনো প্রমাণ প্রশাসনের কাছে নেই।
জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা রায়হান কবির বলেন, ভেতরে ব্যালটে সিল দেওয়া হচ্ছে এমন গুজব ছড়িয়ে স্থানীয় লোকজন ও বিএনপির নেতাকর্মীরা কেন্দ্রে জড়ো হন। বাস্তবে তিনি নিয়ম অনুযায়ী ব্যালট পেপার কক্ষভিত্তিকভাবে আলাদা করছিলেন।
তবে মহানগর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মমতাজউদ্দিন মন্তু দাবি করেন, সন্ধ্যার দিকে তারা কেন্দ্রে গিয়ে ব্যালট ছড়িয়ে থাকতে দেখেন এবং সরকারি কর্মকর্তাদের বাইরে আরও কয়েকজনকে সেখানে দেখতে পান। বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় প্রশাসনকে জানানো হয় বলে জানান তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হলেও প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসসি