রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে সারা দেশে ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচনী অপরাধের তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করতে তারা মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করবেন।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) থেকে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫ দিন এসব ম্যাজিস্ট্রেট প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা নিয়ে দায়িত্বে থাকবেন। ভোটগ্রহণের আগের দুই দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পরের দুই দিন তারা দায়িত্ব পালন করবেন।
নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের উপসচিব (আইন) মোহাম্মদ দিদার হোসাইন স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ‘দ্য রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল অর্ডার, ১৯৭২’-এর অনুচ্ছেদ ৮৯এ অনুযায়ী গত ৫ ফেব্রুয়ারি এই নিয়োগ দেওয়া হয়।
আইন ও বিচার বিভাগ এবং সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শক্রমে জুডিশিয়াল সার্ভিসের এসব কর্মকর্তাকে প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা অর্পণ করা হয়েছে। তারা ভোটদানে বাধা, কেন্দ্র দখল, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও অন্যান্য তফশিলভুক্ত নির্বাচনী অপরাধে ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯০(১) ধারা অনুযায়ী সামারি ট্রায়াল বা সংক্ষিপ্ত বিচার পরিচালনা করবেন।
ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য ইসির নির্দেশনা
প্রজ্ঞাপনে দায়িত্বপ্রাপ্ত ম্যাজিস্ট্রেটদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে—
১০ ফেব্রুয়ারি পূর্বাহ্নে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকায় যোগদান করতে হবে এবং যোগদানপত্রের অনুলিপি ইসি সচিবালয়ে পাঠাতে হবে।
নির্বাচনী অপরাধের বিচার দ্রুত সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে নিষ্পত্তি করতে হবে।
প্রতিটি মামলার নিষ্পত্তির বিবরণী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ইসি সচিবালয়ের আইন শাখায় পাঠাতে হবে।
একজন করে বেঞ্চ সহকারী, স্টেনোগ্রাফার বা অফিস সহকারী সঙ্গে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় যানবাহনের ব্যবস্থা করা হবে।
ম্যাজিস্ট্রেটদের নিরাপত্তায় পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপার ও সংশ্লিষ্ট থানার মাধ্যমে স্ট্রাইকিং ফোর্স মোতায়েন থাকবে।
৩০০ আসনে দায়িত্ব পালন:
তফশিল অনুযায়ী, দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনের জন্য এসব ৬৫৫ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে অধিক্ষেত্র ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। পঞ্চগড়-১ থেকে বান্দরবান পর্যন্ত প্রতিটি আসনে এক বা একাধিক ম্যাজিস্ট্রেট নির্বাচনী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় মাঠে থাকবেন।
নির্বাচন কমিশনের আশা, এই উদ্যোগের ফলে নির্বাচনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে থাকবে এবং ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া হবে আরও স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য।
রিপোর্টার্স২৪/আরকে