| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি নারী নেত্রীদের

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৮, ২০২৬ ইং | ১৫:৪৭:০৮:অপরাহ্ন  |  ৭৬৯৭৩৪ বার পঠিত
শফিকুর রহমানের প্রার্থিতা বাতিলের দাবি নারী নেত্রীদের
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য প্রকাশের অভিযোগে তার প্রার্থিতা বাতিলের দাবি জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন একাধিক নারী নেত্রী ও অধিকারকর্মী।

রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তারা আবেদনটি জমা দেন বলে জানান গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টির সাধারণ সম্পাদক মোশরেফা মিশু।

আবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান তার ভ্যারিফায়েড এক্স অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে যে অবমাননাকর, কুরুচিপূর্ণ ও নারীবিদ্বেষী মন্তব্য করেছেন, তা নারীদের মর্যাদার পরিপন্থী এবং দেশের কোটি কোটি শ্রমজীবী নারীর শ্রম, সম্মান ও সামাজিক অবদানকে অস্বীকার করার শামিল।

মোশরেফা মিশু বলেন, পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট দলের পক্ষ থেকে ওই মন্তব্যকে ‘হ্যাকিং’-এর ফল বলে দাবি করা হলেও ভ্যারিফায়েড অ্যাকাউন্ট থেকে প্রকাশিত বক্তব্যের ক্ষেত্রে এমন ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য, প্রামাণ্য তথ্য বা স্বচ্ছ তদন্তের ফলাফল এখনো জনসমক্ষে আসেনি।

তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যে জানা যায়, হ্যাকিংয়ের অভিযোগে বঙ্গভবনের এক কর্মীকে গ্রেপ্তার দেখানো হলেও পরে পুলিশের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী তথ্য পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারাও জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে হ্যাকিংয়ে সম্পৃক্ততার কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এসব ঘটনা তথাকথিত হ্যাকিং দাবিকে আরও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গার্মেন্টস শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে কর্মরত শ্রমজীবী নারীরা দীর্ঘদিন ধরে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে পরিবার, সমাজ ও জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছেন। তাদের অবদানকে অবমূল্যায়ন করে প্রকাশ্যে এ ধরনের বক্তব্য সংবিধানস্বীকৃত সমতা, মানবাধিকার, নারী মর্যাদা ও সামাজিক ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

নারী নেত্রীরা বলেন, এ ধরনের বক্তব্য নারীর প্রতি ঘৃণা, বৈষম্য ও সহিংসতার সংস্কৃতিকে উসকে দেয় এবং নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও কর্মপরিবেশকে ঝুঁকির মুখে ফেলে। একজন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাছ থেকে এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন মন্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

এ সময় তারা চার দফা দাবি উত্থাপন করেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে,অবিলম্বে ওই অবমাননাকর বক্তব্য প্রকাশ্যে প্রত্যাহার, কর্মজীবী নারী ও নারী শ্রমিকদের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা, ভবিষ্যতে নারীর মর্যাদা ও শ্রমকে হেয় করে কোনো বক্তব্য না দেওয়ার সুস্পষ্ট অঙ্গীকার এবং নির্বাচন কমিশনের আচরণবিধি ও নৈতিকতার আলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির প্রার্থিতা বাতিল।

সিইসির সঙ্গে সাক্ষাৎকালে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সামিনা লুৎফা, গার্মেন্টস শ্রমিক মুক্তি আন্দোলনের সভাপতি শবনম হাফিজ, এনপিএর মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, নারীর রাজনৈতিক অধিকার ফোরামের সংগঠক নাফিসা রায়হানা এবং আইনজীবী ও অধিকারকর্মী তাবাসসুম মেহেনাজ মিমি।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪