বাউফল প্রতিনিধি: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমার কোনো নির্দিষ্ট ঠিকানা নেই, সমগ্র বাংলাদেশই আমার ঠিকানা। সরকার গঠন করতে পারলে দেশের ঘরে ঘরে উন্নয়ন পৌঁছে দেওয়া হবে।”
শুক্রবার বাউফল পাবলিক মাঠে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশে নতুন সূর্য উদিত হবে। আমরা যদি সেই পরিবর্তনের অংশ হতে পারি, তাহলে জনগণকে কিছু চাইতে হবে না—সরকার নিজ থেকেই তাদের প্রয়োজন পূরণ করবে।”
তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীককে ন্যায় ও ইনসাফের প্রতীক উল্লেখ করে বলেন, “এই প্রতীকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করলে দেশে ঘুষ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট থাকবে না। মা-বোনেরা নিরাপদে ও সম্মান নিয়ে চলাফেরা করতে পারবেন।”
সাবেক সরকারগুলোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, “অতীতে যারা ক্ষমতায় ছিলেন, তারা দেশের বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছেন। আমরা সরকার গঠন করতে পারলে পাচার হওয়া অর্থ দেশে ফিরিয়ে এনে উন্নয়নে ব্যয় করব।”
তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারি দুটি ব্যালটে ভোট দিতে হবে—একটি ‘হ্যাঁ’ ভোট এবং অন্যটি প্রতীকে ভোট। দেশের স্বার্থে সচেতনভাবে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে হবে।”
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের সরকার গঠন হলে দুর্নীতিবাজদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।”
সমাবেশে বাউফল আসনের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, “আমি সবসময় জনগণের পাশে ছিলাম এবং থাকব। নির্বাচিত হলে বাউফলকে একটি মডেল উপজেলায় রূপান্তর করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নদীভাঙন এই এলাকার প্রধান সমস্যা। নির্বাচিত হলে ভাঙনকবলিত এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন, কৃষির আধুনিকায়ন, ইউনিয়নভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ, নারীদের জন্য সুরক্ষা সেল গঠন এবং বাউফল হাসপাতালকে ২৫০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
বাউফল উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা ইসহাক মিয়ার সভাপতিত্বে সমাবেশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিপি সাদিক কায়েমসহ কেন্দ্র, জেলা ও উপজেলার নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।
এ সময় পটুয়াখালীর চারটি এবং বরগুনার একটি আসনের প্রার্থীদের হাতে প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের পরিচয় করিয়ে দেন জামায়াতের আমির।
সমাবেশে বিপুল সংখ্যক মানুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেলে অনেককে আশপাশের ভবনের বারান্দা ও ছাদে অবস্থান নিতে দেখা যায়।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন