| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

জাপানের সঙ্গে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০৬, ২০২৬ ইং | ১৬:১২:৫২:অপরাহ্ন  |  ৭৯৩১২৮ বার পঠিত
জাপানের সঙ্গে প্রথম পূর্ণাঙ্গ অর্থনৈতিক চুক্তিতে বাংলাদেশ
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত

সিনিয়র রিপোর্টার: বাংলাদেশের বাণিজ্য-কূটনীতিতে নতুন ইতিহাস সৃষ্টি হলো। বিশ্বের উন্নত অর্থনীতির দেশের সঙ্গে প্রথমবারের মতো পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তৃত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করলো বাংলাদেশ। জাপানের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে শুধু শুল্কমুক্ত বাজার নয়, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, সেবা বাণিজ্য ও সরবরাহ ব্যবস্থায় দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলেছে।

চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হচ্ছে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) জাপানের রাজধানী টোকিওতে। বাংলাদেশের প্রতিনিধি দলের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আয়েশা আক্তার, যুগ্ম সচিব ফিরোজ উদ্দিন আহমেদ, উপসচিব মাহবুবা খাতুন মিনু এবং সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হাসিব সরকার।

চার বছরের যৌথ প্রয়াসে বাস্তবায়ন

২০২২ সালে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরপূর্তি উপলক্ষে গঠিত যৌথ সমীক্ষা দল থেকে শুরু হয় চুক্তির রূপরেখা। ২০২৪ সালের মার্চে আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে যাত্রা শুরু হয়। মোট সাত দফা আলোচনার পর ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে চুক্তির খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।

তাৎক্ষণিক সুবিধা ও রফতানি প্রসার

চুক্তি কার্যকর হওয়ার প্রথম দিন থেকেই বাংলাদেশ ৭,৩৭৯টি পণ্যে জাপানের বাজারে শুল্কমুক্ত সুবিধা পাবে। প্রধান রফতানি পণ্য তৈরি পোশাকও এতে অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া পোশাক খাতে উৎপাদন রূপান্তর সুবিধা থাকায় প্রতিযোগিতা ক্ষমতা বাড়বে।

সেবা খাত, বিনিয়োগ ও প্রযুক্তিতে নতুন সম্ভাবনা

চুক্তির আওতায় বাংলাদেশ জাপানের জন্য ৯৭টি সেবা উপখাত, জাপান বাংলাদেশের জন্য ১২০টি উপখাত উন্মুক্ত করবে। এর ফলে বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে নতুন গতি আসবে।

অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপট

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাপান থেকে বাংলাদেশে পণ্য আমদানি হয়েছে ১৮৭.৪৫ কোটি ডলার, রফতানি হয়েছে ১৪১.১৫ কোটি ডলার। ২০২০-২০২৫ সালের মধ্যে জাপানের প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ হয়েছে প্রায় ৪৬.৯৬ কোটি ডলার, ঋণপ্রতিশ্রুতি ছিল ৩,২৩২ কোটি ডলার, যার মধ্যে ২,২৩৬ কোটি ডলার ছাড় হয়েছে।

এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী কৌশলগত অর্জন

যৌথ সমীক্ষা দলের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এলডিসি উত্তরণের পর বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা হারানোর ঝুঁকি থাকায় জাপানের সঙ্গে এই চুক্তি বাংলাদেশের রফতানি খাতকে টেকসই ও প্রতিযোগিতামূলক রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প মালিকদের সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “মাত্র চার বছরে উন্নত দেশের সঙ্গে এমন জটিল চুক্তি সম্পন্ন হওয়া প্রমাণ করে— সুস্পষ্ট কৌশল ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার থাকলে বাংলাদেশ দ্রুত উচ্চ প্রভাবসম্পন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে সক্ষম।” তিনি আরও যোগ করেন, “চুক্তি শুধু বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ককে নয়, ভবিষ্যতে অন্যান্য উন্নত দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্বের ক্ষেত্রও প্রসারিত করবে।”

রিপোর্টার্স২৪/এসসি

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪