| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

ইইউ’র সঙ্গে দ্রুত এফটিএ আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

reporter
  • আপডেট টাইম: ফেব্রুয়ারী ০১, ২০২৬ ইং | ১৬:১৪:৩৩:অপরাহ্ন  |  ৮৩৭৮৬৪ বার পঠিত
ইইউ’র সঙ্গে দ্রুত এফটিএ আলোচনা শুরুর আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
ছবির ক্যাপশন: সংগৃহীত ছবি

সিনিয়র রিপোর্টার: ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে শিগগিরই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, আগামী বছরগুলোতে বর্তমান শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকারের মেয়াদ শেষ হলে বাংলাদেশের বৃহত্তম রফতানি বাজারে দেশের বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপিয়ান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশের (ইউরোচ্যাম) চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ত্বরান্বিত করা, ইইউ–বাংলাদেশের মধ্যে সুষ্ঠু ও ভারসাম্যপূর্ণ বাণিজ্য সম্পর্ক নিশ্চিত করা এবং দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ উন্নয়নে কাঠামোগত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি আসন্ন নির্বাচন এবং ভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক মোতায়েনের বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সম্প্রতি জাপানের সঙ্গে একটি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সম্পাদন করেছে, যার মাধ্যমে বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতিতে ৭ হাজার ৩০০টিরও বেশি বাংলাদেশি পণ্যের শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত হয়েছে। এই চুক্তি বাংলাদেশের রফতানি সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ অন্যান্য পণ্যের অব্যাহত শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে ইইউ ও অন্যান্য অংশীদার দেশের সঙ্গে একই ধরনের আলোচনা শুরু করতে সরকার প্রস্তুত।

প্রফেসর ইউনূস বলেন, ‘জাপানের সঙ্গে ইপিএ আমাদের জন্য নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। এখন আমাদের লক্ষ্য বাজার সম্প্রসারণ এবং ইইউ’র সঙ্গে একটি এফটিএ সই করা।’

ইউরোচ্যামের চেয়ারপারসন নুরিয়া লোপেজ বলেন, বাংলাদেশকে জরুরি ভিত্তিতে ইইউ’র সঙ্গে এফটিএ আলোচনা শুরু করতে হবে। এলডিসি থেকে উত্তরণ হলে ইইউতে বিদ্যমান বাণিজ্যিক অগ্রাধিকার হারানোর ঝুঁকি রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি এফটিএ বাংলাদেশে আরও ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং উন্নত পশ্চিমা বাজারে রফতানি বাড়াতে সহায়ক হবে। তিনি উল্লেখ করেন, ভারত বর্তমানে ইইউ’র সঙ্গে এফটিএ চূড়ান্ত করছে এবং ভিয়েতনাম ইতোমধ্যেই এমন চুক্তির সুফল পাচ্ছে।

নুরিয়া লোপেজ বলেন, ‘আমরা এফটিএ’র পক্ষে জোরালোভাবে কথা বলছি। ইউরোপে গিয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করব।’

ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিকশিত হবে, যদিও তা ২০২৯ সালের আগে কার্যকর হবে না। তিনি প্রায় ২০ কোটি জনসংখ্যার একটি বড় বাজার হিসেবে বাংলাদেশে ইউরোপীয় বিনিয়োগ ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে ইইউ’র আগ্রহের কথা তুলে ধরেন।

তিনি জানান, ২০২৬ সালে একটি ইইউ–বাংলাদেশ বিজনেস ফোরাম আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইইউ। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইইউ কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে প্রাথমিক রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সমান প্রতিযোগিতার পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশে কারখানা স্থানান্তরের মাধ্যমে ইউরোপীয় প্রতিষ্ঠানগুলো প্রতিযোগিতামূলক ব্যয়ে দক্ষ শ্রমশক্তির সুবিধা নিতে পারে। ‘আমরা একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গড়ে তুলছি। বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করাই আমাদের লক্ষ্য,’ বলেন তিনি।

প্রফেসর ইউনূস আসন্ন সাধারণ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বাংলাদেশে বড় আকারের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল মোতায়েনের ইইউ’র সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। তিনি বলেন, এটি দেশের গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ আস্থার বহিঃপ্রকাশ।

বৈঠকে সরকারের এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ উপস্থিত ছিলেন।

রিপোর্টার্স২৪/এসসি


ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ রিপোর্টার্স২৪ - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪