নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযুক্ত ব্যক্তি ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মায়ের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ কমিটি গঠন করেন রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম আব্দুল্লাহ-বিন-শফিক। উপজেলার মুড়াপাড়া ইউনিয়নের মাহমুদাবাদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটেছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ১১ অক্টোবর বিদ্যালয়ের টিফিনের সময় বেসিন থেকে খাবার পানি আনতে গেলে চতুর্থ শ্রেণির ওই শিক্ষার্থীকে একা পেয়ে যৌন নিপীড়ন করেন বিদ্যালয়ের দপ্তরি সবুজ ফরাজী (৪২)। তিনি মাহমুদাবাদ গ্রামের আবুল হোসেন ফরাজীর ছেলে। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি দেখে ফেলে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় গত ১২ অক্টোবর ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মা। অভিযোগে তিনি দাবি করেন, ২০২২ ও ২০২৪ সালেও একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে চার শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়ন, শ্লীলতাহানি ও ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছিল। ওই সময় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহনাজ পারভীন বলেন, শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে তদন্ত চলছে। তদন্ত যেন ব্যাহত বা প্রভাবিত না হয়, সে জন্য এ মুহূর্তে বিস্তারিত কিছু বলা ঠিক হবে না। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক নাজমুন নাহার বলেন, এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ.আইচ. এম সালাউদ্দিন বলেন, ঘটনাটি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব