বেলাব (নরসিংদী) প্রতিনিধি: নরসিংদীর বেলাবতে বাড়িতে প্রবেশ করে এক পরিবারের মা-মেয়েদের মারধর, গর্ভবতী নারীর মাথা ফাটিয়ে দেওয়া এবং স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রতিবেশী একটি পরিবারের বিরুদ্ধে।
গত শনিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার সল্লাবাদ ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিলক্ষীয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী তৃষা মনি (২১) বেলাব থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
লিখিত অভিযোগ ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দুই প্রতিবেশী পরিবারের মধ্যে আগে থেকেই বিরোধ চলছিল। এরই মধ্যে শিশুদের খেলাকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিপন সরকার, তাঁর বাবা শহিদ সরকার ও মা মোজেদা সরকারসহ কয়েকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় পরিবারের সদস্যদের গালিগালাজের পর মারধর করা হয়।
অভিযোগে তৃষা মনি দাবি করেন, তার মা হনুফা বেগম (৪০), বোন নিপা সরকার (১৮) ও ছোট বোন ইয়ানুর (১৬) হামলার শিকার হন।
এ সময় শিপন সরকারের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে তাঁর মায়ের মাথায় আঘাত করা হয়। এতে হনুফা বেগম গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন। এ ছাড়া লাঠি, লোহার রড দিয়ে তাঁদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তৃষা মনির আরও অভিযোগ, মারধরের একপর্যায়ে তাঁর মায়ের গলায় থাকা আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন নিয়ে যাওয়া হয়, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ১০ হাজার টাকা। তাঁদের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আহত হনুফা বেগমকে দ্রুত বেলাব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। ঘটনার পর তৃষা মনি ও তাঁর বোন নিপা প্রাথমিক চিকিৎসা নেন বলে জানান তিনি। মাথায় আঘাতের কারণে হনুফা বেগম কথা বলতে পারেননি।
তৃষা মনি বলেন, আমার ছোট ভাইবোন রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় শিপনের ভাগনে তাদের মারধর করে। এ বিষয়ে শিপনের মায়ের কাছে বিচার চাইতে গেলে শিপন, তার বাবা ও মা আমাদের বাড়িতে এসে কেচি গেট জোর করে খুলে মারধর করেন। এতে আমার মায়ের মাথা ফেটে গেছে।
হনুফা বেগমের মা অভিযোগ করে বলেন, তাঁর মেয়ে গর্ভবতী। বাড়িতে চার মেয়ে থাকলেও কোনো প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ সদস্য না থাকার সুযোগে তাঁদের ওপর হামলা ও লুটপাট করা হয়েছে বলে তাঁর দাবি।
হনুফা বেগমের ছোট মেয়ে বলেন, আমার বাবা প্রবাসে থাকেন। আমাদের বড় কোনো ভাই নেই। আমরা একা থাকার সুযোগে সবাইকে মারধর করা হয়েছে। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযুক্ত শিপন সরকার বলেন, তাঁরা আমার আম্মাকে মেরে দাঁত ফেলে দিয়েছেন, আমার বাবাকেও মেরেছেন। আমি যাওয়ার পর আমাকে মারতে আসেন। পরে একটু হাতাহাতি হয়েছে। এ ঘটনায় আমিও থানায় অভিযোগ করেছি।
এ বিষয়ে বেলাবো থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম