অভয়নগর (যশোর) প্রতিনিধি: ভৈরব নদে চর পড়ে যশোরের অভয়নগর উপজেলায় অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ নওয়াপাড়া নৌ বন্দর অচল হওয়ার শংকা দেখা দিয়েছে। রেল, মহাসড়ক ও নৌ-পথের স্বমন্বয়ে গড়ে ওঠা শিল্প-বাণিজ্য ও বন্দর নগর নওয়াপাড়া এখন দেশের বৃহত্তম ও প্রথম শ্রেনির নৌ-বন্দর। নদী পথে চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত কার্গো, বলগেট, ট্রলার বোঝাই বিভিন্ন প্রকারের খাদ্য শস্য, পাথর, কয়লা, সারসহ নানা প্রকার পন্য আসে ও খালাস হয়। তারপর এখান থেকেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য সরবরাহ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, নওয়াপাড়া ভৈরব সেতু থেকে চেঙ্গুটিয়া পর্যন্ত প্রায় ২ নটিক্যাল নদের তীরে অধিকাংশ স্থানেই চর জেগে ও নাব্যতা হারিয়ে গতিপথ ছোট হয়ে গেছে। জোয়ারের সময়ও মালবাহী কার্গো জাহাজ চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। বিশেষ করে শুস্ক মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারন করে। সাথে যোগ হয়েছে অবৈধ দখল। দখলদাররা প্রথমে নদীতে অস্থায়ী স্থাপনা তৈরি করে সেখানে বালু অথবা মাটি দিয়ে ভরাট করে, পরে সুযোগ বুঝে সেখানেই তৈরি করে স্থায়ী স্থাপনা। ফলে নদীর কিছু কিছু স্থানের বাঁক পরিবর্তন হয়েছে। নদের নাব্যতা কমে ও গতি পথ ছোট হওয়ায় পণ্য নিয়ে আসা কার্গোগুলিকে খালাসের জন্য জোয়ার আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ফলে মারাত্মক ভাবে ক্ষতি গ্রস্থ হচ্ছে এই বন্দরকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠা সকল ব্যবসা- বানিজ্য। সাথে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন কয়েক হাজার শ্রমজীবী।
নওয়াপাড়া সার, সিমেন্ট ও খাদ্যশস্য ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক শাহজালাল হোসেন বলেন, নওয়াপাড়ায় প্রায় ৪০০ ব্যবসায়ী আছেন। নদ বাঁচাতে না পারলে এখানে ব্যবসা থাকবে না। ইতিমধ্যে এখানে গম, চাল, কয়লা সহ বিভিন্ন পন্য আসা কমে গেছে।
নওয়াপাড়া নদী বন্দরের উপ-পরিচালক মাসুদ পারভেজ জানান, স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ঘাট মালিকরা অহেতুক নদীর নব্যতা সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছেন। ভৈরব সেতু সংলগ্ন এলাকায় নদী খননের কাজ চলছে। আর এই খনন কাজ সারা বছর ধরে চলবে। যারা কৃত্রিম পন্থায় চর বানিয়ে নদী দখল করছে, তাদের তালিকা করে নোটিশ করা হয়েছে। প্রায় ৯০টি প্রতিষ্ঠানকে নোটিশ করা হয়েছে, যার মধ্যে ৫৯টি অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে। বাকিগুলোর বিরুদ্ধে অচিরেই কাজ শুরু করা হবে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম