টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে পুলিশের এক কনস্টেবল স্বামীর মানসিক নির্যাতনে পারভীন আক্তার (১৯) নামের এক নববধূর আত্মহত্যার অভিযোগে মানববন্ধনে ফুঁসে উঠেছেন এলাকাবাসী।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে উপজেলার ছলিমনগর খেলার মাঠে আয়োজিত এই মানববন্ধনে ওই গ্রামের নানা বয়সী শত শত নারী-পুরুষ অংশ নিয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্য নাঈমুর রহমানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুরের ছলিমনগর গ্রামের শাহীন সিকদারের মেয়ে পারভীন আক্তারের সঙ্গে গত দুই মাস আগে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় পার্শ্ববর্তী গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর উপজেলার পূর্ব চান্দরা গ্রামের নাঈমুর রহমানের। নাঈমুর পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত। পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই পরকীয়ায় আসক্ত নাঈমুর পারভীনকে ঘরে না তুলে তালাকের জন্য চাপ দিতে থাকেন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেন। এতে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে বুধবার (৭ অক্টোবর) পারভীন বিষপান করেন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর আগে পারভীন চার পৃষ্ঠার একটি আবেগঘন সুইসাইড নোট রেখে যান। এতে পারভীন লিখেছেন, 'আমার পরিবারের কোনো ভুল নাই, আমার পরিবার আমাকে অনেক সুখ দিছে। বড়লোকের মেয়ে আমি, কিন্তু অনেক সাধারণ-সুন্দরভাবে দিন কাটাইছি। আমার ফুলের মতো জীবন শেষ করল নাঈমুর।'
মানববন্ধনে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, মানসিক নির্যাতন ও আত্মহত্যার প্ররোচনা দিয়ে নববধূর জীবন কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে এবং প্রভাব খাটিয়ে আপস-মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এ ঘটনায় নিহত নববধূর মা মালেকা বেগম বাদী হয়ে ৮ অক্টোবর মির্জাপুর থানায় অভিযুক্ত নাঈমুরসহ তিনজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করেছেন।
মানববন্ধন থেকে বক্তারা মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আসামিদের অবিলম্বে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম