রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকায় ‘বে অব বেঙ্গল কনভার্সেশন ২০২৬’- অনুষ্ঠানের একটি সেশনে এক শিক্ষার্থীর করা প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী রসিকতা পেরিয়ে নানা কথা বলেন।
বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসে (বিউপি) পড়া ইফতেখার নামের ওই শিক্ষার্থী এভাবে প্রশ্ন করেন, ‘হাইকমিশনার স্যারের কাছে আমার প্রশ্ন। আমরা প্রতিবেশী। এই প্রশ্নটা গোটা জাতির। স্যার, ভারত কবে শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে হস্তান্তর করবে।’
উত্তর দেওয়ার সময় দীনেশ ত্রিবেদী কিছুটা রসিকতা করে বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তরের জন্য আমরা কি লাঞ্চের পর দেখা করতে পারি এবং এই লাঞ্চ হবে আপনার বাড়িতে।’
বিউপিতে পড়া ওই শিক্ষার্থী এবার বলেন, ‘লাঞ্চ না করলেও আমি এই প্রশ্ন বারবার করতে চাই।’
দীনেশ ত্রিবেদী এবার বলেন, ‘এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দুই ঘণ্টা সময় আছে। তবু আগে সরাসরি উত্তর দেই। ভারত সরকার বারবার এটা নিয়ে আলাপ করছে। এখানে একটা প্রসেস আছে। প্রসেসটা আইনি এবং খুবই স্বচ্ছ।’
তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিষয় হলো প্রসেস চলছে। এখানে কেউ আপনাকে টাইম ফ্রেম দেবে না। একটু পেছনে ফিরে যাই। হাসিনা জিকে কেউ ভারতে নিয়ে যায়নি। ভারতীয় বিমানবাহিনী বা ভারতের সেনাবাহিনী শেখ হাসিনাকে নিয়ে যায়নি। এটা ওই সময় বাংলাদেশের ট্রাজিক পরিস্থিতির কারণে হয়েছে।’
দীনেশ ত্রিবেদী আরও যোগ করেন, ‘আমরা প্রার্থনা করি এই অবস্থা যেন আর কোনোদিন না হয়, যেখানে নিষ্পাপ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।’
ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘এখানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এয়ারক্রাফট ভারতে এসেছে। ভারত প্রস্তুত ছিল না। আমি টেলিভিশনের স্ক্রলে দেখছিলাম যে তিনি অন্য কোনো একটি দেশে যাচ্ছেন। ওই সময় হাসিনা জি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। আমাদের হাতে তখন খুব বেশি বিকল্প ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হলো জীবনের বাস্তবতাকে গ্রহণ করা। আমরা তখন কী করতে পারতাম। বলতে পারতাম, বিমান নামতে দেওয়া যাবে না বা অন্য কিছু। কিন্তু পরিস্থিতি তেমন ছিল না। ওটাই ছিল ঐতিহাসিক কারণ।’
দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘আপনি নিশ্চিত জানতে পারেন, আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বাংলাদেশের মতো ভারতেও ভাইব্রেন্ট গণতন্ত্র আছে। আপনিও নিশ্চয়ই আইনি পদ্ধতিকে সম্মান করবেন এবং সেই আইনি পদ্ধতি চলছে।’
এভাবে উত্তর দেওয়ার পর দীনেশ ত্রিবেদী আবার মজার ছলে বলেন, ‘আমার লাঞ্চ কিন্তু পাওনা থাকলো।’
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম