রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বাংলা আশ্বিন মাসের মাঝামাঝি সময়েই দেশের উত্তরের জেলা পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় অনুভূত হচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা। ভোরের ঘন কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর ঠান্ডার পরশে বদলে যেতে শুরু করেছে এখানকার প্রকৃতির চেনা রূপ। সকাল গড়ানোর আগেই কুয়াশার সাদা চাদরে ঢেকে যাচ্ছে রাস্তা, গাছপালা, ফসলের মাঠ ও সমতলের বিস্তীর্ণ চা-বাগান।
ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই জেলার বিভিন্ন এলাকায় নেমে আসছে ঘন কুয়াশার আস্তরণ। দূর থেকে তাকালে মনে হচ্ছে, পুরো জনপদ যেন সাদা চাদরে মোড়ানো। কুয়াশায় ভেজা ঘাস, শিশিরসিক্ত ফসলের মাঠ আর চা-বাগানের সবুজ পাতায় তৈরি হচ্ছে এক অন্যরকম নৈসর্গিক পরিবেশ। ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে প্রকৃতির এমন পরিবর্তন স্থানীয়দের মধ্যেও শীতের আগমনের অনুভূতি জাগাচ্ছে।
সকালে কেউ কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হচ্ছেন, কেউ নির্মল পরিবেশে হাঁটতে বেরিয়ে পড়ছেন। আবার অনেকে কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতেও ছুটছেন বাইরে। বিশেষ করে তেঁতুলিয়ার চা-বাগান, গ্রামীণ জনপদ ও বিস্তীর্ণ সবুজ মাঠে ভোরের কুয়াশা তৈরি করছে ভিন্ন এক আবহ। কুয়াশার চাদরে ঢাকা এসব দৃশ্য পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের দৃষ্টি কেড়ে নিচ্ছে।
তবে ঘন কুয়াশার কারণে ভোরের দিকে সড়কে কিছুটা ভোগান্তিও তৈরি হচ্ছে। কয়েক গজ দূরের কোনো কিছু স্পষ্টভাবে দেখা না যাওয়ায় যানবাহনগুলোকে হেডলাইট জ্বালিয়ে সতর্কতার সঙ্গে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে। স্থানীয়দের অনেকেই সকালে বাইরে বের হওয়ার সময় হালকা গরম কাপড় ব্যবহার করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আমিরুল ইসলাম বলেন, ভোরে ঘন কুয়াশার কারণে কয়েক গজ দূরের পথও স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। হিমেল বাতাসের কারণে সকালে বাইরে বের হলে শীতের অনুভূতি হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকরাও জানান, ভোরের কুয়াশা ও আবছা আলোর কারণে মাঠে কাজ শুরু করতে কিছুটা দেরি হচ্ছে। বিশেষ করে খুব সকালে কুয়াশার ঘনত্ব বেশি থাকায় ফসলের মাঠে কাজ করতে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। তবে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সূর্যের আলো কুয়াশা ভেদ করে চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে পরিবেশ।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্টদের মতে, শরৎকালে মৌসুমি বায়ুর সক্রিয়তা ও নিষ্ক্রিয়তার পাশাপাশি আকাশে দীর্ঘ সময় মেঘের অবস্থান এবং পরে হঠাৎ মেঘ সরে যাওয়ার কারণে তাপমাত্রায় এ ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে ভোর ও সন্ধ্যায় তাপমাত্রার অনুভূতিতে পরিবর্তন স্বাভাবিক। এ সময় দিনের তুলনায় ভোর ও রাতের দিকে ঠান্ডার অনুভূতি কিছুটা বেশি হতে পারে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্র নাথ রায় জানান, বুধবার সকাল ৬টায় তেঁতুলিয়ায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। কয়েক দিন ধরে এ অঞ্চলের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২৪ থেকে ২৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে।
আশ্বিনের মাঝামাঝিতেই তেঁতুলিয়ার প্রকৃতিতে কুয়াশা ও ঠান্ডার এমন উপস্থিতি স্থানীয়দের মনে শীতের আগমনের বার্তা দিচ্ছে। ভোরের কুয়াশা, হিমেল বাতাস আর সবুজ প্রকৃতির মেলবন্ধনে উত্তরের জনপদে ধীরে ধীরে তৈরি হচ্ছে শীতের আবহ।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম