স্পোর্টস ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বরাবরই গলফ কোর্সে নিজের পারফরম্যান্স ও প্রতিভার কথা জাহির করে থাকেন। তবে সম্প্রতি নিউ জার্সির নিজের বেডমিনস্টার গলফ কোর্সে আয়োজিত ‘সিনিয়র’ ও ‘সুপার সিনিয়র মেনস ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে’ নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করার পর নতুন করে জালিয়াতির অভিযোগ ও সমালোচনার মুখে পড়েছেন তিনি।
ট্রাম্পের দাবি, পার ৭২ কোর্সে ৭০ স্কোর করে নিজের ৪৩তম ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপ ট্রফি জিতেছেন। তবে তার এই কথিত সাফল্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আত্মঅহংকারের প্রকাশের পর গলফ কোর্সে তার অতীতের একাধিক বিতর্ক, বিশেষ করে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের কাছে হেরে যাওয়ার সেই লজ্জাজনক গল্পটি আবারও আলোচনায় এসেছে।
গলফ কোর্সে ট্রাম্পকে ঘিরে বিতর্ক বা অনভিপ্রেত ঘটনা অবশ্য এবারই প্রথম নয়। ২০০৭ সালের ওয়েস্টচেস্টার মেনস ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিপে ১৫ বছর বয়সী কিশোর অ্যাডাম লেভিনের কাছে অদ্ভুত ও লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করতে হয়েছিল তৎকালীন ৬০ বছর বয়সী ট্রাম্পকে।
ম্যাচের প্রথম রাউন্ডে পাঁচ হোল বাকি থাকতে চার হোলে এগিয়ে ছিলেন ট্রাম্প। জয় যখন প্রায় নিশ্চিত, ঠিক তখনই ১৫ বছর বয়সী লেভিনের বিরুদ্ধে দুটি পেনাল্টি বা নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ তোলেন তিনি।
ট্রাম্পের এমন আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ঘুরে দাঁড়ান লেভিন। একে একে ব্যবধান কমিয়ে ১৮তম হোলে গিয়ে সমতা ফেরান তিনি। এরপর দ্বিতীয় প্লে অফ হোলে ট্রাম্পকে টুর্নামেন্ট থেকেই ছিটকে দেন ১৫ বছর বয়সী লেভিন।
ম্যাচে হেরে যাওয়ার পর ট্রাম্প কোনো ন্যূনতম সৌজন্যতাও দেখাননি বলে পরবর্তীতে জানিয়েছিলেন লেভিন। তার ভাষায়, ‘তিনি আমার চোখে চোখ রেখে হাত মেলাননি, এমনকি ‘অভিনন্দন’ বা ‘ভালো ম্যাচ হয়েছে’ও বলেননি। সারা দিনজুড়েই তার আচরণ বেশ অমার্জিত ছিল।’
সম্প্রতি নিজের মালিকানাধীন গলফ কোর্সে বিজয়ী হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, ‘আমি ৭০ স্কোর করে জিতেছি। অন্যান্য প্রতিযোগীর মতো আমি অনুশীলন করার সময় পাই না, কারণ আমাকে আরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ সামলাতে হয়। একে বলে প্রতিভা, যা আমার আছে কিন্তু অন্যদের নেই!’
ট্রাম্পের এই আত্মঅহংকার এবং প্রতিপক্ষদের কটাক্ষের বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও ক্রীড়াঙ্গনে তীব্র সমালোচনা চলছে। স্পোর্টস এডিটর রন ফিলিপকোভস্কি এক্সে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক গলফ খেলার দুটি ভিডিও পোস্ট করার পর তার ৭০ স্কোরের দাবি নিয়ে বড় ধরনের সংশয় তৈরি হয়েছে।
ভিডিও দুটির একটিতে ট্রাম্পকে সহজ পুট শট মিস করতে দেখা যায়। অন্যটিতে বল মারতে গিয়ে শ্যাংক বা দিকভ্রান্ত করতে দেখা যায় তাকে।
ক্রীড়া লেখক রিক রাইলি দীর্ঘদিন ধরে গলফ কোর্সে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগ তুলে আসছেন। নিজের লেখা বই ‘কমান্ডার ইন চিট’-এ রাইলি দাবি করেন, ‘উইংড ফুট গলফ ক্লাবে ট্রাম্প যখনই খেলতেন, বল পা দিয়ে ঠেলে ফেয়ারওয়েতে নিয়ে আসতেন। ক্যাডিরা তার এই কাণ্ড দেখে তার নামই রেখে দিয়েছিল ‘পেলে’। জালিয়াতির বিচারে ১ থেকে ১০ স্কেলে তাকে ১১ দিতে হয়।’
২০২৫ সালের বেডমিনস্টার চ্যাম্পিয়নশিপের আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্পকে খোঁচা দিয়েছিলেন রাইলি। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, গ্লাসগোতে পুরো বিশ্বের সামনে জালিয়াতির অভিযোগের পরও কি ট্রাম্প এবার নির্দ্বিধায় নিজেকে বিজয়ী দাবি করবেন?
তবে অতীতের সব অভিযোগের মতো এসব দাবি ও জালিয়াতির অভিযোগও বরাবরই অস্বীকার করে আসছেন ট্রাম্প। লেখক রাইলিকে ‘অত্যন্ত অসৎ ও বাজে লেখক’ বলেও একাধিকবার কটাক্ষ করেছেন তিনি।
রিপোর্টার্স২৪/ধ্রুব