অনলাইন ডেস্ক: অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমে ফিলিস্তিনিদের মালিকানাধীন জমিতে ২ হাজার ৩০০টি নতুন বসতি আবাসন ইউনিট নির্মাণের পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। জেরুজালেমভিত্তিক ইসরায়েলি মানবাধিকার সংস্থা ‘ইর আমিম’ বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে।
সংস্থাটির দাবি, দক্ষিণ-পশ্চিম পূর্ব জেরুজালেমের গিলো বসতি সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তাদের মতে, পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম শহরের সঙ্গে পূর্ব জেরুজালেমের ভৌগোলিক সংযোগ আরও দুর্বল হবে।
‘ইর আমিম’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রকল্পের জন্য ইসরায়েলের বিতর্কিত ‘অনুপস্থিতদের সম্পত্তি আইন’ প্রয়োগ করে ফিলিস্তিনিদের জমি অধিগ্রহণ করা হয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, অন্তত ২৮ ডুনাম (প্রায় ৬ দশমিক ৯ একর) জমি প্রথমে ‘রাষ্ট্রীয় জমি’ হিসেবে ঘোষণা করে পরে বসতি সম্প্রসারণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। পাশাপাশি আরও কিছু জমির মালিকানা ‘অজ্ঞাত’ দেখিয়ে সেগুলোও অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
প্রস্তাবিত নির্মাণস্থলে বহু দশক ধরে ফিলিস্তিনিদের ব্যক্তিমালিকানাধীন জলপাই বাগান রয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বিপুলসংখ্যক পুরোনো জলপাই গাছ উপড়ে ফেলার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংস্থাটি।
ফিলিস্তিনিদের দাবি, ১৯৬৭ সালে ইসরায়েলি দখলের পর ভূমি বন্দোবস্ত প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যাওয়ায় অনেক জমির আধুনিক আইনি দলিল নেই। বংশানুক্রমে মালিকানা থাকা এসব জমি ‘অনুপস্থিতদের সম্পত্তি আইন’সহ বিভিন্ন আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে দখল করে বসতি স্থাপনকারীদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ।
এর আগে জুন মাসের শেষ দিকে ইসরায়েলের অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণের গতি বাড়ানোর ঘোষণা দেন। তিনি জানান, সরকার ইতোমধ্যে ১৬০টি বসতি খামার স্থাপন এবং ১০০টির বেশি নতুন বসতি অনুমোদন করেছে।
জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতিগুলোকে আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করে আসছে। তাদের মতে, এসব বসতি সম্প্রসারণ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি ও দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে আরও জটিল করে তুলছে। অন্যদিকে, ফিলিস্তিনিদের অভিযোগ, নতুন বসতি নির্মাণের মাধ্যমে দখলকৃত ভূখণ্ডে স্থায়ী বাস্তবতা তৈরি করার চেষ্টা করছে ইসরায়েল।
রিপোর্টার্স২৪/রাফিদ