রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: বিএনপি মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি কখনোই একদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিশ্বাস করে না। তার দাবি, দলটি দীর্ঘ পাঁচ দশক ধরে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চালিয়ে আসছে।
শনিবার (২০ জুন) মুন্সীগঞ্জ সফরকালে বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছিলেন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়েছেন। বিএনপি নেতা তারেক রহমানও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের অংশ হিসেবে দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপির রাজনীতির মূল ভিত্তি হলো গণতন্ত্র, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং জনগণের ভোটাধিকার। জনগণের সমর্থনে বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে নির্বাচিত হয়েছিল বলেও তিনি দাবি করেন, তাই তাদের গণতন্ত্র নিয়ে প্রশ্ন তোলা সমীচীন নয়।
তিনি জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে বলেন, দলটি একটি রেজিমেন্টেড রাজনৈতিক সংগঠন, যা গণতান্ত্রিক চর্চায় বিশ্বাস করে না।
মালয়েশিয়ার সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক আরও জোরদার হবে এবং উভয় পক্ষের স্বার্থ ও মর্যাদা রক্ষা করেই চুক্তি সম্পন্ন হবে। বন্ধ থাকা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়েও আলোচনা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে স্থানীয়দের উদ্দেশে বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি সরকারের মেয়াদ মাত্র তিন মাস হয়েছে। এই স্বল্প সময়েই বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভাতা চালু।
তিনি আরও জানান, দেশজুড়ে খাল খনন কর্মসূচিও শুরু হয়েছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয়দের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুন্সীগঞ্জের কালীদাস নদীর ওপর উত্তর ইসলামপুর–মোল্লারচর কাঠের সাঁকোর পরিবর্তে একটি সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি। একই সঙ্গে ফুলদি নদীর ওপরও দ্রুত সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। অবকাঠামো উন্নয়ন বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় অর্থনীতি আরও গতিশীল হবে এবং মানুষের ভোগান্তি কমবে।
সফরকালে তিনি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন, সড়ক উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের শহীদদের কবর জিয়ারতও করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, জেলা প্রশাসক, পুলিশ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং জনপ্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম