রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে কটূক্তি, অপপ্রচার এবং আপত্তিকর মন্তব্যের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (ডিপিই)। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছেন, তাদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রণীত ‘সরকারি প্রতিষ্ঠানে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নির্দেশিকা-২০১৯ (পরিমার্জিত সংস্করণ)’ অনুসরণ করা সকল সরকারি কর্মচারীর জন্য বাধ্যতামূলক। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন পোস্ট ও মন্তব্য করছেন, যা এই নির্দেশিকার পরিপন্থী।
অধিদপ্তরের মতে, এসব পোস্ট ও মন্তব্যের কারণে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা, সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় আরও বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকার, সরকারি দপ্তর কিংবা সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কটূক্তি, অপপ্রচার, বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার, আপত্তিকর পোস্ট প্রদান অথবা এ ধরনের পোস্ট শেয়ার করাও সরকারি চাকরির আচরণবিধির লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচিত হবে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ‘সরকারি কর্মচারী শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা, ২০১৮’ অনুযায়ী অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার আলোকে বিভাগীয়, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গঠিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মনিটরিং কমিটিগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব কমিটিকে প্রতি মাসে অন্তত একটি সভা আয়োজন করে শিক্ষকদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কার্যক্রম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশনা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অধিদপ্তরের নির্দেশনায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব শিক্ষক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কটূক্তি, অপপ্রচার বা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকবেন, তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
একই সঙ্গে গৃহীত ব্যবস্থার বিস্তারিত প্রতিবেদন অধিদপ্তরে পাঠানোর জন্য বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবং উপজেলা বা থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের অনুরোধ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মাহবুবা আইরিন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি দেশের সকল বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, পিটিআই সুপারিনটেনডেন্ট এবং উপজেলা ও থানা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি কর্মচারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি রক্ষার লক্ষ্যে এ নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের জন্য প্রণীত আচরণবিধি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণের বিষয়টি আবারও গুরুত্বের সঙ্গে সামনে এসেছে।
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম