মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার হিন্দা গ্রামে ভুল চিকিৎসার কারণে একটি গরুর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। একমাত্র সম্বল হারিয়ে বিচার চেয়ে মৃত গরুটি ভ্যানে করে থানায় নিয়ে যান ভ্যানচালক নাজমুল হোসেন।
রোববার (১৪ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হিন্দা গ্রামের পশ্চিমপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেন জানান, তার একমাত্র এঁড়ে গরুটি ছিল পরিবারের ভবিষ্যৎ সচ্ছলতার স্বপ্ন। ভ্যান চালিয়ে অল্প অল্প করে টাকা জমিয়ে এবং বাড়ির একটি ছাগল বিক্রি করে প্রায় ৫০ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কিনেছিলেন।
তার অভিযোগ, রোববার সকালে গ্রাম্য পশু চিকিৎসক আকতারুল ইসলাম তার বাড়িতে এসে গরুর বসন্ত রোগ প্রতিরোধে নতুন ও কার্যকর একটি ভ্যাকসিনের কথা বলেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তিনি গরুটিকে ভ্যাকসিন দিতে সম্মতি দেন। কিন্তু ভ্যাকসিন প্রয়োগের প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে গরুটির পেট ফুলতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি মারা যায়।
নাজমুল হোসেন বলেন, ‘ইনজেকশন দেওয়ার আগে আমি ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম কোনো সমস্যা হবে কি না। কিন্তু ইনজেকশন দেওয়ার মাত্র ১০ মিনিটের মাথায় গরুর পেট ফুলে যায় এবং চোখের সামনেই সেটি মারা যায়।’
প্রিয় প্রাণীটিকে হারিয়ে শোকার্ত নাজমুল হোসেন সকালে মৃত গরুটি ভ্যানে করে গাংনী থানায় নিয়ে গিয়ে বিচার চান।
খবর পেয়ে গাংনী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিস মোর্শেদ চৌধুরী বিষয়টি আমলে নেন এবং মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে গরুটির মরদেহ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ওসি বলেন, ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রাণিসম্পদ বিভাগের সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে, ঘটনার পর অভিযুক্ত গ্রাম্য চিকিৎসক আকতারুল ইসলামের বক্তব্য নিতে সাংবাদিকরা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে গেলে তিনি সেখান থেকে চলে যান। ফলে এ বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভেটেরিনারি সার্জন) আরিফুল ইসলাম বলেন, সাধারণত এলএসডি (লাম্পি স্কিন ডিজিজ) প্রতিরোধী ভ্যাকসিন প্রয়োগে গরুর মৃত্যু হওয়ার কথা নয়। তবে এ ক্ষেত্রে কেন এমন ঘটনা ঘটেছে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। গরুর সুরতহাল ও প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পরীক্ষার জন্য পাঠানো হবে। ল্যাবরেটরি রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
একমাত্র উপার্জনের মাধ্যম হারিয়ে দিশেহারা নাজমুল হোসেনের পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
রিপোর্টার্স২৪/ মিতু