ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার ভূল্লী থানা এলাকায় এক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে (১৬) মাইক্রোবাসে তুলে অপহরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে ভূল্লী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন।
এর আগে গত শনিবার সন্ধ্যায় উপজেলার শুখানপুকুরী ইউনিয়নের তরুকপথা বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মামলায় পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা মো. শাকিবকে (২৮) প্রধান আসামি করে ছয়জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মো. সিরাজুল ইসলাম (৩৩), মোছা. রাশেদা বেগম (২৫), মো. ইদ্রিস (৪০), মো. ইস্রাফিল এবং মো. আকতার হোসেন (২৮)।
মামলার এজাহার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী কিশোরী স্থানীয় লাউধুতি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিদ্যালয়ে যাওয়া-আসার পথে প্রধান আসামি শাকিব তাকে প্রায়ই উত্ত্যক্ত করতেন এবং কুপ্রস্তাব দিতেন। বিষয়টি পরিবারকে জানালে স্বজনরা শাকিব ও তার পরিবারের কাছে প্রতিবাদ জানান এবং তাকে সতর্ক করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে শাকিব কিশোরীর ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত শনিবার সন্ধ্যা আনুমানিক ৭টার দিকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতে স্থানীয় তরুকপথা বাজারে যাওয়ার পথে একটি পুকুরসংলগ্ন সড়কে পৌঁছালে শাকিব ও তার সহযোগীরা কিশোরীর মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। পরে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী বিষয়টি পরিবারের সদস্যদের জানান।
স্বজনদের অভিযোগ, ঘটনার পর তারা দেবীগঞ্জে প্রধান আসামি শাকিবের বাড়িতে খোঁজ নিতে গেলে শাকিবের স্ত্রী ও মামলার ৩ নম্বর আসামি রাশেদা বেগম বাড়ির মূল ফটক বন্ধ করে জানান, কিশোরীকে অপহরণ করে দেশের বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এরপর তিনি তাদের গালিগালাজ ও ভয়ভীতি দেখিয়ে সেখান থেকে চলে যেতে বাধ্য করেন।
পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কা করছেন, কিশোরীকে পাচার করা হতে পারে বা তার বড় ধরনের ক্ষতি করা হতে পারে। মেয়েটির সন্ধান না পাওয়ায় এবং বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভূল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, “স্কুলছাত্রী অপহরণের ঘটনায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অপহৃত কিশোরীকে উদ্ধার এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
রিপোর্টার্স২৪/এসএন