বাগেরহাট প্রতিনিধি : দীর্ঘ ৫৮ দিনের সামুদ্রিক মাছ আহরণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় নতুন উদ্যমে সাগরে ফিরতে শুরু করেছেন উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা। শুক্রবার (১২ জুন) ভোর থেকে ইলিশসহ বিভিন্ন সামুদ্রিক মাছের আশায় শত শত ট্রলার বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশে যাত্রা করবে। তবে মাছের প্রাচুর্যের প্রত্যাশার পাশাপাশি বৈরী আবহাওয়া ও দস্যু আতঙ্কও তাদের সঙ্গী হয়ে রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলা মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, জেলেরা ট্রলারে জাল, বরফ, খাদ্যসামগ্রী ও জ্বালানি তোলার কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। কেউ শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আবার কেউ ইতোমধ্যে গভীর সমুদ্রের পথে রওনা দিয়েছেন। অনেক ট্রলার মালিক অনুকূল আবহাওয়ার অপেক্ষায় থাকলেও অধিকাংশই নতুন মৌসুমের শুরুতে মাছ ধরার সুযোগ হাতছাড়া করতে চান না।
দুই মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবন কাটাতে হয়েছে বলে জানান জেলেরা। সংসারের খরচ মেটাতে অনেকেই ধার-দেনার ওপর নির্ভর করেছেন। এখন সাগরে ভালো মাছ পেয়ে সেই ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তারা।
জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, “দুই মাস কোনো আয় ছিল না। অনেক কষ্টে পরিবার চালিয়েছি। এখন সাগরে যাচ্ছি। আল্লাহ ভরসা, ভালো মাছ পেলে দেনা শোধ করতে পারব।”
আরেক জেলে আব্দুল গফুর বলেন, “নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। মাছের সম্ভাবনা ভালো আছে শুনছি। কিন্তু দস্যুদের ভয় সব সময় থাকে। নিরাপত্তা আরও বাড়ানো প্রয়োজন।”
ট্রলার মালিক ও আড়তদারদের মতে, নিষেধাজ্ঞা শেষে সাধারণত সাগরে মাছের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। ফলে মৌসুমের শুরুতেই ভালো আহরণের আশা করছেন তারা। তবে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা এবং জলদস্যুদের তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগ কাটেনি।
শরণখোলা সমুদ্রগামী ফিশিং ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, “একটি ট্রলার সাগরে পাঠাতে কয়েক লাখ টাকা বিনিয়োগ করতে হয়। অনেক মালিক ঋণ নিয়ে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। এখন সবার প্রত্যাশা, জেলেরা নিরাপদে মাছ ধরে ঘাটে ফিরবেন।”
শরণখোলা উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা অঞ্জন বিশ্বাস জানান, নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় জেলেরা সাগরে যেতে পারছেন। আবহাওয়ার পরিস্থিতি বিবেচনায় সতর্কতার সঙ্গে ট্রলার চলাচলের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে নতুন মৌসুমের শুরুতে আশার জাল ফেলতে সাগরে ছুটছেন জেলেরা। তাদের প্রত্যাশা, কাঙ্ক্ষিত মাছ ধরা পড়বে, দূর হবে গত দুই মাসের আর্থিক সংকট এবং নিরাপদে ফিরবেন পরিবার-পরিজনের কাছে।
রিপোর্টার্স২৪/এসএন