মেহেরপুর প্রতিনিধি: মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক পুশ-ইনের চেষ্টার ঘটনায় এক শিশুসহ ছয়জন মানুষ দুই দেশের সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েছেন। তীব্র গরম, খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে তাদের সময় কাটছে বলে জানা গেছে।
শনিবার (৬ জুন) ভোররাতে তেঁতুলবাড়ীয়া গ্রামের হাটপাড়া এলাকার মেইন পিলার-১৪০-এর সাব-পিলার-৫ সংলগ্ন সীমান্ত দিয়ে বিএসএফ এই ছয়জনকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে। কাঁটাতারের গেট খুলে দেওয়া হলে তারা পায়ে হেঁটে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করেন। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও স্থানীয় গ্রামবাসীর বাধার মুখে তারা বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকতে পারেননি।
পরে তারা আবার ভারতের দিকে ফিরে যেতে চাইলে বিএসএফ তাদের নিজেদের ভূখণ্ডেও প্রবেশ করতে দেয়নি। ফলে দুই দেশের সীমান্তের মাঝামাঝি শূন্যরেখায় মানবেতর অবস্থায় আটকে পড়েন তারা। আটকে পড়াদের মধ্যে তিনজন পুরুষ, দুইজন নারী এবং একটি শিশু রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণে তারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। তীব্র গরমের মধ্যে কোনো ধরনের আশ্রয়, পর্যাপ্ত খাবার কিংবা বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা না থাকায় তাদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছে। শনিবার দুপুরের পর গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হলে শূন্যরেখার কাছে অবস্থানরত এক বৃদ্ধা নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। শিশুটির কান্না এবং বড়দের অসহায় পরিস্থিতি এলাকায় মানবিক উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এদিকে, অনাকাঙ্ক্ষিত পুশ-ইন ঠেকাতে ভোর থেকেই সীমান্তে কঠোর অবস্থান নিয়েছে বিজিবি। তেঁতুলবাড়ীয়া সীমান্তে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। বিজিবির পক্ষ থেকে হ্যান্ডমাইকের মাধ্যমে বিএসএফকে বারবার ওই ছয়জনকে ফিরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি।
সীমান্তে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
রিপোর্টার্স২৪/মিতু