রিপোর্টার্স২৪ ডেস্ক: দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের লড়াই আজ চূড়ান্ত রূপ নিচ্ছে ভারতের গোয়ার পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি বাংলাদেশ ও স্বাগতিক ভারত যেখানে লড়াই শুধু ট্রফির নয়, মর্যাদা, আধিপত্য, প্রতিশোধ এবং ইতিহাস গড়ারও।
বাংলাদেশের সামনে এবার টানা তৃতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের সুযোগ। ২০২২ ও ২০২৪ সালের পর আরেকটি শিরোপা জিততে পারলে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক পূর্ণ হবে লাল-সবুজের মেয়েদের।
অন্যদিকে স্বাগতিক ভারতের লক্ষ্য নিজেদের হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার করা। ঘরের মাঠে শিরোপা জিতে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলে নিজেদের আধিপত্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে চায় তারা।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলের যাত্রা শুরু হয় ২০১৬ সালে, যখন প্রথমবার সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে ওঠে দলটি। শিলিগুড়ির সেই ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে গেলেও সাবিনা খাতুন ও সিরাত জাহানদের পারফরম্যান্সে সম্ভাবনার জানান দেয় বাংলাদেশ।
এরপর বয়সভিত্তিক পর্যায়েও ধারাবাহিক সাফল্য পায় বাংলাদেশ। ২০১৭ সালে অনূর্ধ্ব ১৫ এবং ২০১৮ সালে অনূর্ধ্ব ১৮ সাফ চ্যাম্পিয়ন হয়ে ভবিষ্যতের ভিত শক্ত করে দলটি।
২০২২ সালে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে প্রথমবারের মতো সিনিয়র সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে ইতিহাস গড়ে বাংলাদেশ। এরপর ২০২৪ সালেও শিরোপা ধরে রেখে নিজেদের আধিপত্য আরও দৃঢ় করে লাল-সবুজের মেয়েরা।
এবার লক্ষ্য টানা তৃতীয় শিরোপা। তবে পথটা সহজ নয়। গ্রুপ পর্বে ভারতের কাছে ৩-০ ব্যবধানে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ধাক্কা সামলে সেমিফাইনালে শক্তিশালী নেপালকে ২-১ গোলে হারিয়ে ফাইনালে উঠে এসেছে তারা।
অন্যদিকে ভারত সেমিফাইনালে ভুটানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করেছে।
সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের ইতিহাসে বাংলাদেশ ও ভারত ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে একবারই ২০১৬ সালে। সেবার ৩-১ গোলে জেতে ভারত। তবে পরবর্তী সময়ে একাধিক ম্যাচে ভারতকে হারিয়ে নিজেদের সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশ।
এই ফাইনাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ অধিনায়ক মারিয়া মান্ডার জন্যও। ২০১৬ সালের ফাইনালেও ছিলেন তিনি, এবার তার কাঁধে নেতৃত্বের দায়িত্ব। সামনে রয়েছে পুরোনো হারের প্রতিশোধ নেওয়ার সুযোগ।
এখন অপেক্ষা একটাই গোয়ার মাঠে বাংলাদেশ কি পারবে ইতিহাস গড়ে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ শিরোপা জিততে, নাকি স্বাগতিক ভারত আবারও ট্রফি উঁচিয়ে ধরবে নিজেদের মাঠে?
রিপোর্টার্স২৪/ঝুম